Logo

কক্সবাজারে ৩২৪ মণ্ডপে হবে দুর্গাপূজা, নজর নিরাপত্তায়

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার
১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৩৮
কক্সবাজারে ৩২৪ মণ্ডপে হবে দুর্গাপূজা, নজর নিরাপত্তায়
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার জেলায় এবার ৩২৪টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের প্রস্তুতি নিয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ছয়টি।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কক্সবাজার সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আইনজীবী বাপ্পি শর্মা এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার ৩২৪টি মণ্ডপের মধ্যে ১৫৪টিতে প্রতিমাপূজা এবং ১৭০টিতে ঘটপূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসব।

জেলার উপজেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, এবার সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপ রয়েছে চকরিয়া উপজেলায়। সেখানে ৭১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া কুতুবদিয়ায় ৪৪টি, রামুতে ৩৭টি, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৩১টি, ঈদগাঁওয়ে ২৯টি, মহেশখালীতে ২৮টি, কক্সবাজার পৌরসভায় ২৬টি, চকরিয়া পৌরসভায় ২৫টি, পেকুয়া ও উখিয়ায় নয়টি করে, মহেশখালী পৌরসভায় ছয়টি এবং টেকনাফে ছয়টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পূজামণ্ডপ কমিটিগুলো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের যাতায়াত, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং উৎসবের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সম্প্রীতির মিলনমেলার আয়োজন করা হবে। এ অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের দাবি, বিসর্জন অনুষ্ঠান ঘিরে বিভিন্ন গোয়েন্দা ও বিশেষায়িত সংস্থার সদস্যরাও মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন।

আইনজীবী বাপ্পি শর্মা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের অর্থ সম্পাদক স্বপন গুহ জানান, দুর্গাপূজায় ছুটি বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এবার পূজার তিন দিনের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে পেশাজীবীরা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন। পাশাপাশি মণ্ডপপ্রতি সরকারি অনুদানও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। উৎসব শেষ হওয়া পর্যন্ত সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন এই নেতা।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু বলেন, জেলার ৩২৪টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মণ্ডপে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণে এবারের উৎসব সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি দোলন ধর জানান, দুর্গোৎসব সফল করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূজামণ্ডপ কমিটির নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সবার সহযোগিতায় আনন্দমুখর পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজার জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তাব্যবস্থায় ট্রাফিক পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশও যুক্ত থাকবে।

তিনি আরও জানান, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্গোৎসব উপলক্ষে কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD