Logo

শত বছরেও পাকা হয়নি সড়ক, দুর্ভোগে পেকুয়ার হাজারো মানুষ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
পেকুয়া, কক্সবাজার
১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৪৮
শত বছরেও পাকা হয়নি সড়ক, দুর্ভোগে পেকুয়ার হাজারো মানুষ
ছবি: প্রতিনিধি

কক্সবাজারের পেকুয়া পৌরসভার পূর্ব গোঁয়াখালী টেকপাড়া-বিলহাসুরা সড়কটি শত বছর পেরিয়েও পুরোপুরি উন্নয়নের মুখ দেখেনি। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির একাংশে ইট বিছানো থাকলেও প্রায় এক কিলোমিটার অংশ এখনো কাঁচা।

বিজ্ঞাপন

ফলে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এ পথে চলাচলকারী হাজারো মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদাপানি ও জলাবদ্ধতায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সড়ক উন্নয়নের আশ্বাস পাওয়া গেলেও বাস্তবে স্থায়ী কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্ষায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দ ও ধুলাবালির কারণে যাতায়াতে ভোগান্তি বাড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় এ পথে ছোট একটি আইল ছিল। সেই আইল দিয়েই চলাচল করতেন এলাকার বাসিন্দারা। পরে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন মাটি ফেলে সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্ত করেন। এরপর এলাকায় জনবসতি বেড়েছে, গড়ে উঠেছে শত শত বসতবাড়ি। সেই সঙ্গে বেড়েছে মানুষের যাতায়াতও। কিন্তু জনসংখ্যা ও চলাচলের প্রয়োজন বাড়লেও সড়কটির উন্নয়ন সেই অনুপাতে হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সড়কটির সবচেয়ে দুরবস্থাপূর্ণ অংশ খলিলুর রহমান জামে মসজিদসংলগ্ন কালভার্ট থেকে বাবুলের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এ অংশ এখনো কাঁচা এবং অনেক জায়গায় চলাচলের অনুপযোগী। বৃষ্টির পানি জমে পুরো পথ কাদায় পরিণত হয়। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হয়।

শুষ্ক মৌসুমে অটোরিকশা চলাচল করতে পারলেও বর্ষায় অনেক সময় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজে যাতায়াত করতে বাড়তি দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।

বিজ্ঞাপন

এলাকার শতবর্ষী বাসিন্দা ফকির মুহাম্মদ সড়কটির দীর্ঘদিনের দুরবস্থা তুলে ধরে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই এলাকায় প্রথম দিকে আমরা কয়েকটি পরিবার বসবাস করতাম। এখন শত শত বসতবাড়ি হয়েছে। প্রথমে এখানে ছোট্ট একটি আইল ছিল। সেই আইল দিয়েই আমাদের যাতায়াত করতে হতো। পরে সড়কটি প্রশস্ত হয়েছে, কিন্তু এখনো পাকা হয়নি। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। জীবনের শেষ সময়ে এসে অন্তত সড়কটি পাকা হতে দেখতে চাই।

কলেজছাত্রী জিসান বলেন, সড়কের বেশির ভাগ অংশে ইট বিছানো থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নকাজ হচ্ছে না। সড়কটির বর্তমান অবস্থা দেখে রাস্তা বলে মনে হয় না, বরং চাষ করা জমির মতো লাগে। বর্ষায় চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়। তিনি দ্রুত সড়কটির সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফ মিয়া ও বাদশাহ জানান, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে বর্ষায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় রোগীকে দোলনায় করে বহন করতে হয়। আবার সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমলে নৌকাই হয়ে ওঠে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা।

বিজ্ঞাপন

তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চললেও সড়কটির স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের মতে, সড়কটির দুরবস্থা শুধু যাতায়াতের সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যাওয়া, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষায় জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণকে তাঁরা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক জানান, পরিষদের পক্ষ থেকে ১৪টি সড়কের উন্নয়নের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকায় বাবুলের বাড়ি থেকে খলিলুর রহমান জামে মসজিদসংলগ্ন কালভার্ট পর্যন্ত সড়কটি তিন নম্বরে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল হোছাইন বলেন, আমি নতুন আসছি। সড়কটির লোকেশনটা চিনতে পারছিনা। খোঁজ নিয়ে আমরা সরেজমিন গিয়ে সড়কটি দেখে আসব।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে শুধু আশ্বাস নয়, প্রয়োজন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ। সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের মাধ্যমে নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD