পেকুয়ায় গাছের খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে কালভার্ট, ঝুঁকিতে ৪ হাজার মানুষ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কেরণরছড়ি ছড়ার ওপর নির্মিত একটি কালভার্ট জরাজীর্ণ হয়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে কালভার্টের নিচের মাটি ও ইট ধসে যাওয়ায় সেটি এখন গাছের সরু খুঁটি ও ডালপালার ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা যায়, কালভার্টটির দুই পাশের সুরক্ষাদেয়াল ও মূল ভিত্তি ভেঙে পড়েছে। নিচের অংশে ইট ও মাটির স্তূপ জমে আছে। ঢালাই করা ওপরের স্ল্যাবটি কয়েকটি সরু গাছের খুঁটির ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। কালভার্টের সংযোগস্থলে চলাচলের জন্য কাঠ ও গাছের ডাল বিছিয়ে অস্থায়ী সাঁকোর মতো ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় কালভার্টটি পুরোপুরি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসী জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কালভার্টের সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কেরণরছড়ি ও আশপাশের এলাকার অন্তত চার হাজার মানুষের স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কৃষক, ব্যবসায়ী ও অটোরিকশাচালকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। আলহেরা মাদরাসা, টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টইটং উচ্চ বিদ্যালয় এবং বনকানন এশাতুল উলুম দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট পার হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল খালেক জানান, কালভার্টটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো অপসারণ করে সেখানে স্থায়ী ও টেকসই নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা জরুরি।
বিজ্ঞাপন
টইটং ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাস্টার জয়নাল আবদীন বলেন, কেরুণছড়ি কালভার্টটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে কালভার্টটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।








