Logo

ধামরাইয়ে ৩ বাড়ির সামনে কাফনের কাপড় ও গলাকাটা মুরগি

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ধামরাই, ঢাকা
৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭:৩৪
ধামরাইয়ে ৩ বাড়ির সামনে কাফনের কাপড় ও গলাকাটা মুরগি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল এলাকায় গভীর রাতে তিনটি বাড়ির প্রধান ফটকে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও গলাকাটা মুরগি রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে এঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির প্রধান ফটকে কাফনের কাপড় ও গলাকাটা মুরগি দেখতে পান দুটি বাড়ির গৃহকর্তারা। এর আগে রাতে মোসলেহ উদ্দিনের বাড়িতে রাতেই বাড়ির গ্রিলে ব্যাগ ঝুলতে দেখা যায়। এঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের সাধারণ মানুষের মনে অজানা ভয় জেঁকে বসে। যে তিনটি বাড়িকে লক্ষ্য করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে, সেগুলোর মালিক হলেন গত মাসে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মো. মোসলেহ উদ্দিন, এবং তাঁর প্রতিবেশী মো. ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন ও সেন্টু মিয়া।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মোসলেহ উদ্দিন বলেন, "গত ২৪ অক্টোবর গভীর রাতে আমার বসতঘরে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। সেই দুঃসহ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার এই ঘটনা। যারা সে সময় আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আমাকে সহযোগিতা করেছিলেন, ঠিক তাদের বাড়িগুলোতেই এবার কাফনের কাপড় পাঠিয়ে মৃত্যুর বার্তা দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।" আমার বাড়ির পাশে জমি কেনা নিয়ে আমাকে একটি নাম্বার থেকে হুমকি দেয়। বলে ওই জমি আপনি কেন ক্রয় করলেন। তারপর থেকেই একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরেক ভুক্তভোগী মো. ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন বলেন, রাতে মোসলেহ উদ্দিন কাকার বাসায় ব্যাগ ঝুলানো দেখে উঠে যাই। সেখানে আতঙ্কে এলাকার অনেকেই আসে। এরপর কাকা ঘরে ঢূকে গেলে আমিও বাড়ি চলে আসি। তখনও আমার বাড়ির সামনে কিছু দেখি নাই। এরপর দেখি "সকালে দরজায় কাফনের কাপড়, আতর, সাবান আর রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি, এটা দেখে আমরাও আঁতকে উঠি। এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমাদের পরিবারকে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতেই এই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।"

তৃতীয় ভুক্তভোগী সেন্টু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা এলাকায় শান্তিতে বাস করতে চাই। প্রকাশ্য দিবালোকে বা রাতের আঁধারে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হুমকি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের পুরো পরিবার এখন আতঙ্কে ঘরের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও প্রশাসনের কাছে কঠোর নিরাপত্তা চাই।"

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর থেকে শুধু ওই তিন পরিবারই নয়, পুরো চন্দ্রাইল গ্রামের মানুষের মনে ভয় কাজ করছে। পুলিশ যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, একের পর এক হুমকি ও বাড়িতে কাফনের কাপড় রাখার ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন। পরবর্তীতে ধামরাই থানায় গিয়ে বিষয়টি লিখিতভাবে পুলিশকে জানানো হয়।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD