Logo

স্বামীর টাকায় উচ্চশিক্ষার পরে সহকর্মীর সঙ্গে সংসার, জেলে শিক্ষিকা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
বরিশাল
৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯:০৮
স্বামীর টাকায় উচ্চশিক্ষার পরে সহকর্মীর সঙ্গে সংসার, জেলে শিক্ষিকা
ছবি: সংগৃহীত

স্বামীর কষ্টার্জিত অর্থে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে সরকারি চাকরি পাওয়ার পর সহকর্মী শিক্ষকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে বরিশালের মুলাদীর এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় ওই শিক্ষিকা ও তার কথিত প্রেমিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট।

বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত শিক্ষিকা নাসরিন সুলতানা বরিশালের মুলাদী উপজেলার ডিক্রীরচর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মনির হোসেন চৌধুরী মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আসোলী সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১২ সালে তাদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে।

ভুক্তভোগী মনির ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন নাসরিন। স্ত্রীর সেই ইচ্ছা পূরণে এগিয়ে আসেন প্রবাসী মনির। বিদেশে উপার্জিত অর্থ দিয়ে স্ত্রীর পড়াশোনা ও সংসারের যাবতীয় ব্যয় বহন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে মুলাদীর কাজিরচর ইউনিয়নের বেগম সামছুন্নাহার শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান নাসরিন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

•

•

•

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে সহকর্মী শিক্ষক বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামের তারিকুল ইসলামের সঙ্গে নাসরিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৪ সালে তারিকুলকে ভোলার একটি শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। তবে তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করেন মনির। গত জুলাইয়ে মনিরকে তালাক দিয়ে তারিকুলকে বিয়ে করেন নাসরিন। এ সময় মনিরের টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই মনির হোসেন বরিশালের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কাজিরহাট) আমলি আদালতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানা, তারিকুল ইসলাম ও তাদের সহযোগী জাহেদুল ইসলামকে আসামি করা হয়।

মামলায় গত সোমবার (২ নভেম্বর) সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানা ও তারিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, দুজনের কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার নাসরিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক সুরাইয়া খানের সই করা অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

মনির হোসেন চৌধুরীর অভিযোগ, প্রবাসে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে অর্জিত অর্থ ও স্বর্ণালংকার হারিয়ে বর্তমানে তিনি অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে। ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানা আদালতে হাজির হয়েছিলেন। পরে তিনি কারাগারে যান। শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মামলা নিষ্পত্তির পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD