Logo

পাটের বাম্পার ফলন, ভালো দাম পেয়ে স্বস্তিতে কৃষক

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ
৩০ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫১
পাটের বাম্পার ফলন, ভালো দাম পেয়ে স্বস্তিতে কৃষক
ছবি: প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে পাটের আবাদ। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের পরিচর্যায় পাটের ফলনও হয়েছে আশানুরূপ। এর সঙ্গে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাদের আশা, বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে মৌসুমের শেষ দিকে পাটের দাম আরও বাড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাটে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। বাজারে উন্নত মানের পাট প্রতি মণ ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক নিম্নমানের পাটের দাম পাওয়া যাচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা। কৃষকদের মতে, পাট কিছুদিন সংরক্ষণ করে বিক্রি করলে আরও বেশি দাম পাওয়া সম্ভব।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কটিয়াদীতে ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উপজেলার প্রায় সব এলাকাতেই ফলন ভালো হয়েছে। একসময় পতিত পড়ে থাকা অনেক জমিতেও এবার পাটের চাষ হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় নতুন অনেক কৃষকও পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, ধান চাষে লোকসানের অভিজ্ঞতার কারণে অনেক কৃষক এবার পাট চাষে ঝুঁকেছেন।

সরেজমিনে উপজেলার জোয়ারিয়া, মানিখালী, করগাঁও, সহশ্রাম, ধুলদিয়া ইউনিয়নের সুতি এলাকা, মসুয়া, বনগ্রাম ও লোহাজুরীসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে পাট কাটার, জাগ দেওয়ার, আঁশ ছাড়ানোর এবং রোদে শুকানোর ব্যস্ততা। রাস্তার পাশে সারি সারি শুকানো হচ্ছে পাট ও পাটকাঠি। বিভিন্ন জলাশয়ের ধারে শ্রমিকেরা পচানো পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে শুকিয়ে বান্ডিল তৈরি করছেন। পাশাপাশি কটিয়াদী পুরাতন বাজারের ঐতিহ্যবাহী পাটের মোকামগুলোতেও নতুন পাটের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

বনগ্রাম ইউনিয়নের নন্দিপুর গ্রামের কৃষক আক্কাস মিয়া জানান, তিনি এ মৌসুমে দুই একর জমিতে পাটের চাষ করেছেন। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তার জমিতে প্রায় ৪৫ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে এবং বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রির আশা করছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

লোহাজুরী ইউনিয়নের দশপাখি গ্রামের কৃষক আবুল হাশিম বলেন, বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তার ধারণা, মৌসুমের শেষ দিকে এ দাম ৪ হাজার ৫০০ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। তবে অনেক সময় ব্যবসায়ীরা ভালো মানের পাটকেও নিম্নমানের বলে কম দামে কেনার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

কটিয়াদী বাজারের পাট ব্যবসায়ী জুয়েল সাহা বলেন, বর্তমানে ভালো মানের পাট ৪ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে কেনা হচ্ছে। এখনও পুরোপুরি পাট বাজারে ওঠেনি। বড় ব্যবসায়ীদের কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করতে পারলে ব্যবসা আরও সহজ হয়। দীর্ঘদিন গুদামে পাট মজুত থাকলে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়।

কটিয়াদী বাজার পাট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবীর সাহা জানান, বর্তমানে তোষা পাটের সর্বোচ্চ দাম প্রতি মণ ৪ হাজার ৩০০ টাকা। মেস্তা পাটের দামও প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, মিল মালিকরা সময়মতো নগদ অর্থ পরিশোধ করলে ব্যবসায়ীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে পাট কিনতে পারবেন। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক থাকলে বাজার পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাটের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে এবং কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। তবে উন্নত মানের আঁশ উৎপাদনের জন্য কৃষকদের পর্যাপ্ত ও পরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে পাটের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারে আরও ভালো দাম পাওয়া সম্ভব হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD