ফুলবাড়ীতে ১৫ কোটি টাকার হাঁড়িভাঙা আম বেচাকেনার সম্ভাবনা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর জনপ্রিয় আম ‘হাঁড়িভাঙা’। দিন দিন বাড়ছে এ আমের চাষ ও জনপ্রিয়তা। হাঁড়িভাঙা আম এখন ফুলবাড়ীর নিজস্ব ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হওয়ায় আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আশার আলো।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা কৃষি বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১৫ জুন থেকে পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাত শুরু করেছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। চাষিরা গাছ থেকে আম সংগ্রহ করে বিভিন্ন আড়ত ও হাটবাজারে বিক্রি করছেন।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলার শিবনগর এলাকায় দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে সারি সারি হাঁড়িভাঙা আমের বাগান। গাছে গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় আম। চাষিরা জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে এ বছর নির্ধারিত সময়ের আগেই অনেক আম পাকতে শুরু করেছে।
কৃষি বিভাগ ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাঁড়িভাঙা আম সাধারণত জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত পাওয়া যায়। মাঝারি সুগন্ধযুক্ত এ আমের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে ফুলবাড়ী ছাড়াও দিনাজপুরের বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এ আমের চাষ বিস্তার লাভ করছে।
বিজ্ঞাপন
শিবনগর গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, আগে দুই একর জমিতে ধান ও আলুর চাষ করতাম। আট বছর আগে সেই জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের বাগান করেছি। আগে জমির ফসল থেকে বছরে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ হতো। গত বছর আম বিক্রি করে সাড়ে তিন লাখ টাকা পেয়েছি। এবার আরও ভালো লাভের আশা করছি।
বুজরুক সমশেরনগর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এক একর জমিতে আমের বাগান করেছি। গত তিন বছরে আম বিক্রি করে গড়ে দেড় লাখ টাকার বেশি আয় করেছি। ধান চাষ আর আম চাষের লাভের মধ্যে পার্থক্য অনেক।
বিজ্ঞাপন
আলাদিপুর ইউনিয়নের রাঙামাটি এলাকার চাষি রহমত আলী জানান, চার বছর আগে তিন একর জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের বাগান করেছেন। গত বছর থেকে বাণিজ্যিকভাবে আম বিক্রি করছেন। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর লাভ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
ফুলবাড়ীর বেজাই মোড়, বারাইহাট, ফুলবাড়ী বাজার ও পার্শ্ববর্তী কালীহাটে বসছে বড় আমের বাজার। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এসব বাজার থেকে আম কিনতে আসছেন। মৌসুমের শুরুতে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় আম ব্যবসায়ী জিয়াউল ইসলাম ও বাবু মিয়া বলেন, দিন যত যাচ্ছে হাঁড়িভাঙা আমের চাহিদা তত বাড়ছে। আমকে ঘিরে ছোট-বড় অনেক ব্যবসা তৈরি হয়েছে এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, ফুলবাড়ীতে প্রতিবছর হাঁড়িভাঙা আমের চাষ বাড়ছে। লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা ধানি জমিতেও আমের বাগান করছেন। বর্তমানে ৪৬০ হেক্টর জমিতে ৩ লাখ ৫৪ হাজার হাঁড়িভাঙাসহ বিভিন্ন জাতের আম গাছ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত বছর ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার আম বিক্রি হয়েছে। এ বছর ১৪ থেকে ১৫ কোটি টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। এ আম চাষে এঁটেল ও দো-আঁশ মাটি বেশি উপযোগী। এক একর জমিতে বছরে প্রায় তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।








