Logo

সার-বিষসহ বাজারে সব পণ্যের দাম বাড়লেও বাড়ে না শুধু ধানের দাম

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
শেরপুর, বগুড়া
১৪ মে, ২০২৬, ১৮:৪০
সার-বিষসহ বাজারে সব পণ্যের দাম বাড়লেও বাড়ে না শুধু ধানের দাম
ছবি: সংগৃহীত

বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের খরচ বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়ছে না ধানের দাম। ফলে উৎপাদন ব্যয় মিটিয়ে লাভ তো দূরের কথা, অনেক কৃষক খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কৃষকেরা বলছেন, নিজেদের শ্রমের মূল্য হিসাব করলে ধান চাষ এখন প্রায় অলাভজনক হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে ধান আবাদ করতে জমি প্রস্তুত থেকে ধান মাড়াই পর্যন্ত খরচ হচ্ছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে জমির নাড়া কাটতে ২৫০ টাকা, আইল কাটতে ৩০০ টাকা, ধানের বীজ কিনতে ৫০০ টাকা ও চারা উৎপাদনে ১ হাজার টাকা ব্যয় হয়। হালচাষে খরচ হয় ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং ধান রোপণে আরও ১ হাজার টাকা লাগে।

এ ছাড়া প্রথম দফায় ফসফেট, পটাশ ও ডিএপি সার প্রয়োগে প্রায় ১ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ইউরিয়া সার ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে আরও ২ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ভিটামিন ও কীটনাশকে খরচ হয় প্রায় ৩ হাজার টাকা। জমি নিড়ানিতে ৫০০ টাকা এবং সেচে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লাগে।

বিজ্ঞাপন

ধান কাটতে শ্রমিক দিয়ে খরচ হয় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা। আবার মেশিনে ধান কাটলে খরচ কমে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায় নেমে আসে, তবে সে ক্ষেত্রে খড় পাওয়া যায় না বলে জানান কৃষকেরা। ধান বহনে ৫০০ টাকা এবং মাড়াইয়ে ৬০০ টাকা খরচ হয়। লিজ নেওয়া জমিতে চাষ করলে প্রতি বিঘায় আরও প্রায় ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়।

কৃষকেরা জানান, এক বিঘা জমিতে গড়ে ১৮ থেকে ২০ মণ ধান উৎপাদন হয়। বর্তমানে কাটারী জাতের ভালো মানের ধান প্রতি মণ ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানের ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। সুবল লতা জাতের ভালো মানের ধান ১ হাজার ১০০ টাকা এবং সাধারণ মানের ধান ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট জাতের ভালো মানের ধান ১ হাজার ২০০ টাকা এবং সাধারণ মানের ধান ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক বিঘা জমির খড় বিক্রি করে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়।

শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের কৃষক হায়দার আলী বলেন, এক বিঘা জমি আবাদে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। ১২০০-১৩০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করে কি লাভ থাকে? আসলে আমরা খাওয়ার জন্য হলেও আবাদ করতেই হয়। জমি তো ফাঁকা রাখা যাবে না। কৃষকদের প্রতিবাদ করার জায়গা নেই। লস হলেও আবাদ করতেই হয়।

বিজ্ঞাপন

একই এলাকার কৃষক মজিবর রহমান বলেন, আমি চার বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছি। কিন্তু এই দামে ধান বিক্রি করলে লস হবে। কাঁচা ধান যদি ১৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করা যেত, তাহলে কিছু লাভ থাকত।

কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, ধান বেচে চালানই উঠবে না। কৃষকের তো শরম নাই। সরকার ধানের দাম না বাড়ালেও কৃষকের আবাদ করাই লাগে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল হান্নান শেখ বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৯৬০ মেট্রিক টন ধান ও ১৯৪৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান ও ৪৮ টাকা কেজি দরে চালের দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রতি কৃষক সরকারি গুদামে সর্বোচ্চ তিন টন ধান সরবরাহ করতে পারবেন। আগামী ২১ তারিখ থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD