লোহাগড়ায় ধানের বাজার মুখ থুবড়ে পড়েছে, হতাশ সাধারণ কৃষক

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা। বর্তমানে প্রতি মণ ধান এক হাজার থেকে ১১শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের এ ব্যাপক ব্যবধানে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে কৃষকদের মাঝে।
বিজ্ঞাপন
কৃষকদের অভিযোগ, একদিকে টানা বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে ধান, অন্যদিকে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যেই স্থানীয় কিছু ধান ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেটের কারণে ধানের দাম আরও কমে গেছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় কৃষক রইচ উদ্দিন টিপু, এচকেন মৃধা, মানিক শেখ, ফরিদ সিকদার ও রফিকুল মন্ডলসহ শতাধিক কৃষক জানান, সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করেও এখন ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না তারা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধানের এমন দাম থাকলে আগামীতে চাষাবাদ ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে হবে।
বিজ্ঞাপন
কৃষকদের ভাষ্য, বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচই উঠছে না। ফলে সংসার চালানো এবং ঋণ পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন ধান ব্যবসায়ী বলেন, সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি করায় এবং মিল মালিকরা কম দামে ধান কিনছে বলে বাজারে ধস নেমেছে।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনমুন সাহা বলেন, এ বছর লোহাগড়ায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে কৃষক কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরকার ধানের একটি নির্ধারিত মূল্য দিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে কেন কম দামে ধান বিক্রি হচ্ছে, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এদিকে নড়াইল জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শামীম হাসান বলেন, ধান ক্রয়-বিক্রয় সরাসরি ভোক্তা অধিকার আইনের আওতায় পড়ে না। এ বিষয়ে কৃষি বিপণন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
ধানের বাজারদর নিয়ে বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। কৃষকদের দাবি, দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ করে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।








