আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক, জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় দোগাছি পদ্ধতির ব্যবহার

আমন মৌসুমকে সামনে রেখে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় পুরোদমে চলছে রোপা আমনের বীজতলা প্রস্তুত ও দোগাছি (ডাবল ট্রান্সপ্লান্টিং) তৈরির কাজ। জলাবদ্ধতার ঝুঁকি এড়িয়ে চারাকে সবল রাখা এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করতে কৃষকরা এ পদ্ধতি অনুসরণ করছেন। আষাঢ় মাসের শুরু থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী শ্রাবণ মাসে মূল জমিতে চারা রোপণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ৯০৯ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। চাষের জন্য ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৯৩, ব্রি ধান-৯৪, ব্রি ধান-৯৫, ব্রি ধান-১০৩, বিনা ধান-২২, বিনা ধান-২৬, স্বর্ণা-৫ ও গুটি স্বর্ণাসহ বিভিন্ন জাতের ধান নির্বাচন করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে প্রায় ৯১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগ জানায়, বর্ষার অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার আলাদিপুর, বাসুদেবপুর, মহেশপুর, বারাইহাট, খয়েরবাড়ী, খড়মপুর, মোক্তারপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বীজতলা থেকে ২২ থেকে ২৫ দিনের চারা তুলে দুই থেকে তিনটি করে একত্রে দোগাছি তৈরি করা হচ্ছে। মূল জমির পানি নেমে গেলে ২২ থেকে ২৫ দিন পর এসব চারা আবার তুলে মূল জমিতে রোপণ করা হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দোগাছি পদ্ধতিতে চারা আরও সবল হয় এবং জলাবদ্ধতার কারণে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করলে আলো-বাতাস চলাচল ভালো হয়, আগাছা দমন, সার প্রয়োগ ও পরিচর্যাও সহজ হয়। এজন্য সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার এবং গোছা থেকে গোছার দূরত্ব ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার রাখার পাশাপাশি প্রতি গোছায় দুই থেকে তিনটির বেশি চারা না লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আলাদিপুর ইউনিয়নের উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক মহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষিশ্রমিকের মজুরি আগের তুলনায় বেড়েছে। তারপরও সময়মতো রোপণ শেষ করতে সবাই মাঠে কাজ করছেন। ভালো ফলন হলে অতিরিক্ত খরচ উঠে আসবে।
একই ইউনিয়নের জিয়তগ্রাম গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, সাধারণভাবে চারা লাগালে একরপ্রতি প্রায় ৪০ মণ ধান পাওয়া যায়। কিন্তু দোগাছি পদ্ধতিতে চাষ করলে ৫০ মণের বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব। এ পদ্ধতিতে কম চারা লাগে এবং দ্রুত শিকড় গজায়। তাই কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
বেতদিঘী ইউনিয়নের খড়মপুর গ্রামের কৃষক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, এবার বৃষ্টিপাত ভালো হয়েছে। তাই সময়মতো দোগাছি তৈরি করছি। এ পদ্ধতিতে চারা বেশি পানিতেও সহজে নষ্ট হয় না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় রোপা আমনের ২২ থেকে ২৫ দিনের চারাকে নিরাপদ রাখার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো দোগাছি বা ডাবল ট্রান্সপ্লান্টিং। বীজতলা থেকে চারা তুলে সরাসরি মূল জমিতে না লাগিয়ে প্রথমে উঁচু জমিতে ঘন করে রোপণ করা হয়। পরে ২২ থেকে ২৫ দিন পর সেই চারা তুলে মূল জমিতে লাগানো হয়। এতে চারা আরও শক্তিশালী হয় এবং ফলন ভালো পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, “তবে সব জাতের ধানে এ পদ্ধতি উপযোগী নয়। যেসব জাতের জীবনকাল বেশি, যেমন ব্রি ধান-৩৪, স্বর্ণা-৫ ও গুটি স্বর্ণা—এসব জাত দোগাছি পদ্ধতির জন্য উপযুক্ত। জীবনকাল কম এমন ধানের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত নয়।”








