জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমনের চাষ এবার জাজিরায়

শখের বসে শুরু করেছিলেন জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন চাষ। মাত্র ১০টি চারা দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা শুরু করলেও চার বছরের ব্যবধানে মিলেছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
বিজ্ঞাপন
এখন বাগানজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিদেশি এই উচ্চমূল্যের ফল। শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সুমন মাদবর এখন পার্সিমনের কলম চারা উৎপাদন করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
জাজিরা উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সুমন মাদবর জানান, প্রায় চার বছর আগে তিনি ১০টি পার্সিমনের চারা প্রায় সাত হাজার টাকায় সংগ্রহ করেন। পরে নিজের তিন কাঠা জমির কুল বাগানের মধ্যে চারাগুলো রোপণ করেন।
সে সময় প্রতিটি ছোট চারা ৭০০ টাকা করে কেনায় অনেকেই তাকে ‘পাগল’ বলেছিলেন। অনেকের ধারণা ছিল, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটি পার্সিমন চাষের উপযোগী নয়। কিন্তু সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে মাত্র চার বছরের মধ্যেই গাছগুলোতে এসেছে প্রচুর ফল।
বিজ্ঞাপন
সুমন বলেন, শুরুতে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু এখন গাছে ফল দেখে সবাই অবাক হচ্ছেন। আমি চাই নার্সারিতে পার্সিমনের কলম চারা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ফলের চাষ সম্প্রসারণ করতে।
তিনি জানান, তার বাগানে পার্সিমনের পাশাপাশি কমলা, মিষ্টি চেরি, লংগান, গোলাপজাম, লাল জাম্বুরা এবং আঠাবিহীন কাঁঠালসহ বিভিন্ন বিদেশি জাতের ফলের গাছ রয়েছে। তবে নতুন হওয়ায় পার্সিমন ফল দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয়সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঝারি আকৃতির গাছগুলোতে থোকায় থোকায় ঝুলছে পার্সিমন। দেখতে কিছুটা বাউকুল, আপেল ও দেশীয় গাব ফলের মিশ্রণের মতো এই ফল স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তোতা মহাজন বলেন, এ ধরনের ফল আগে কখনো দেখিনি। শুনেছি এটি বিদেশি ফল। তাই দেখতে এসেছি। এখনও পাকেনি, তাই খাওয়ার সুযোগ হয়নি।
আরেক দর্শনার্থী সুজন বলেন, পার্সিমনের নাম ইউটিউব ও টেলিভিশনে দেখেছি। আমাদের দেশে এর চাষ হয়, সেটা জানতাম না। গাছে এত ফল দেখে খুবই ভালো লাগছে।
বিজ্ঞাপন
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও পার্সিমন গাছ টিকে ছিল। পরে এই ফলকে জাপানের জাতীয় ফল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। জাপানিদের কাছে পার্সিমন সমৃদ্ধি, সৌভাগ্য, দীর্ঘায়ু ও শরতের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
জাজিরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুসলিমা জাহান রুনিয়া বলেন, বাগানটি পরিদর্শন করে দেখা গেছে, খুব বেশি পরিচর্যা ছাড়াই ভালো ফলন হয়েছে। এটি প্রমাণ করে, আমাদের দেশের মাটি ও আবহাওয়া পার্সিমনের মতো উচ্চমূল্যের বিদেশি ফল চাষের জন্য উপযোগী। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রণোদনা দিয়ে তাকে সহযোগিতা করব, যাতে অন্যরাও এ ধরনের ফল চাষে আগ্রহী হন।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক বলেন, নতুন জাতের ফল চাষে আগ্রহী কৃষকদের কৃষি বিভাগ সবসময় সহযোগিতা করে। পার্সিমন একটি উচ্চমূল্যের ফল। এর বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকরা প্রচলিত ফসলের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি লাভবান হতে পারবেন।
স্থানীয়দের মতে, সুমন মাদবরের এই সফল উদ্যোগ জাজিরায় বিদেশি ফল চাষের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। যথাযথ সহায়তা ও চারা সহজলভ্য হলে ভবিষ্যতে পার্সিমন বাংলাদেশের কৃষিতে একটি লাভজনক ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।








