ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতুতে দুর্ভোগ, বিপাকে সাত হাজার মানুষ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী নীলকমল নদীর ওপর নির্মিত একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন প্রায় সাত হাজার মানুষ। নড়বড়ে হয়ে পড়া এই সেতু ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি দূর করতে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ভুরুঙ্গামারী সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতের দুটি সেতু নির্মাণের বিনিময়ে ফুলবাড়ীর নাখারজান সীমান্তে নীলকমল নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। ভারত তাদের অংশের সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করলেও প্রশাসনিক জটিলতায় বাংলাদেশ অংশে নীলকমল নদীর ওপর আর স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়নি।
পরে ২০১৭ সালে স্থানীয় উদ্যোগে কাঠ ও বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়। কিছুদিনের মধ্যেই সেটি ভেঙে গেলে স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় কলার ভেলা ব্যবহার করে নদী পারাপার করেন। পরে জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে প্রায় ১৫০ মিটার দীর্ঘ ও ৬ মিটার প্রশস্ত একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
চলতি বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে সেতুটির সংস্কার করা হলেও মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সেটি আবারও নড়বড়ে হয়ে গেছে। বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারতের কুচবিহার জেলার সেউটি এলাকা থেকে নেমে আসা নীলকমল নদী কুঠিচন্দ্রখানা গ্রামকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। নদীর পশ্চিম তীরে নাখারজান এবং পূর্ব তীরে কুঠিচন্দ্রখানার মূল অংশ অবস্থিত। নাখারজান গ্রামের তিন দিকই ভারতীয় সীমান্তে ঘেরা। ফলে এই সেতুই গ্রামবাসীর মূল ভূখণ্ডে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। বর্ষাকালে সেতু অচল হয়ে পড়লে পুরো গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল মিয়া জানান, নাখারজান, কুড়ারপাড়, কুটিচন্দ্রখানা, চোত্তাবাড়ি, আব্দুল্লাহ বাজার, গংগারহাট, চাঁদের বাজার, বিদ্যাবাগিশ, জুম্মারপাড় ও নন্দীরকুটি গ্রামের প্রায় সাত হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করেন। এছাড়া চাঁদের হাট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উত্তর কুটিচন্দ্রখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উত্তর কুটিচন্দ্রখানা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও এই সেতু দিয়ে চলাচল করেন। বিকল্প সড়ক না থাকায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
বিজ্ঞাপন
আরেক বাসিন্দা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যানসহ শত শত যানবাহন এই সেতু দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু সেতুর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই দ্রুত একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
শিক্ষার্থী মনি আক্তার জানায়, একদিন স্কুলে যাওয়ার সময় সেতু থেকে নদীতে পড়ে গিয়েছিল। পরে এক আত্মীয় তাকে উদ্ধার করেন। ওই ঘটনার পর থেকে একা সেতু পার হতে ভয় লাগে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় রশিদ মিয়ার অভিযোগ, যথাযথভাবে সংস্কার না করায় অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটি আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীকেও রিকশা বা ভ্যানে করে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। এতে প্রতিদিনই দুর্ভোগ বাড়ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মো. মামুনুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বছরের শুরুতে সেতুটির সংস্কার করা হয়েছিল। তবে বরাদ্দ সীমিত থাকায় প্রয়োজনীয় মানের কাজ করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে নতুন করে স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।








