ঘোড়াঘাটে এসিল্যান্ডের উদ্যোগে পৌর ও ভূমি সেবায় পরিবর্তনের দাবি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. আব্দুল-আল-মামুন কাওসার শেখের দায়িত্বকালে পৌরসেবা ও ভূমি প্রশাসনে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
পৌরসভার উন্নয়ন, নাগরিক সেবার গতি বৃদ্ধি, ভূমি অফিসে সেবার স্বচ্ছতা এবং বাজার তদারকির মতো বিভিন্ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেন। পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রায় ২৩ দশমিক ৮৩৮ কিলোমিটার সড়ক পাকা করার কাজ চলমান রয়েছে, যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৯ কোটি টাকা।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া ওসমানপুর ও বাগেরহাট বাজারে অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক কিচেন মার্কেট, স্ট্রিট লাইট স্থাপন এবং বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে।
পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোলাম রব্বানী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এলাকার সড়কটি কাঁচা ছিল। এবার সেটি উন্নয়ন হয়েছে। পাশাপাশি পৌর ও ভূমি অফিসের সেবাও আগের তুলনায় সহজ হয়েছে।”
পৌর প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৯ মাসের বেতন বকেয়া ছিল। বর্তমান প্রশাসনের সময়ে মোট ৩৪ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে বকেয়ার পরিমাণ সাত মাসে নেমে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার পারভেজ বলেন, দীর্ঘদিন বেতন বকেয়া থাকায় কর্মচারীরা নানা সমস্যায় ছিলেন। বর্তমান প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়মিত বেতন এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে।
গত ৩০ জুন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৫৫ কোটি ৯৪ লাখ ২০০ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়, যা পৌরসভার ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে দাবি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পৌরসভা সূত্রে আরও জানানো হয়, বর্তমানে জন্মসনদ, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশান সনদ ও বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র দ্রুত সময়ের মধ্যে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ভূমি অফিসে দালালমুক্ত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নামজারি (খারিজ) সেবা প্রদান এবং দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন ভূমি মামলার নিষ্পত্তির কার্যক্রমও চলছে।
এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়মিত বাজার তদারকি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের মাধ্যমে যানজট নিরসনের কাজও অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. আব্দুল-আল-মামুন কাওসার শেখ বলেন, আমি সরকারের একজন কর্মচারী হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করছি। সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সরকারি সেবা পান, সেটিই আমার প্রধান লক্ষ্য। জনস্বার্থে এসব কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের একটি অংশের মতে, প্রশাসনের এসব উদ্যোগে পৌরসেবা ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে এসব কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।








