Logo

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে জাইকা প্রেসিডেন্ট

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার
৪ জুলাই, ২০২৬, ১৫:০৫
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে জাইকা প্রেসিডেন্ট
ছবি: সংগৃহীত

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সফরকালে তারা রোহিঙ্গাদের মানবিক পরিস্থিতি, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন জাইকা প্রেসিডেন্ট।

শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিনিধিদল উখিয়ার মধুরছড়া ৪-এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পরে কুতুপালং নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

সভায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা সংকট, চলমান মানবিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “জাইকার এই সফর বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক (এফডিএমএন) এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা ও টেকসই উন্নয়নে জাইকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।”

তিনি জানান, ২০১২ সাল থেকে জাইকা কক্সবাজারে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, জীবিকা, মৎস্য, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) এবং নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ৩৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আরআরআরসিকে কারিগরি সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

বিজ্ঞাপন

মতবিনিময় সভায় রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা, সেবার মানোন্নয়ন, দুর্যোগ-সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদল চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করে।

শেষে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার বলেন, জাইকার অব্যাহত সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশীদারিত্ব মানবিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ, সহনশীল ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD