কুড়িগ্রামে চার নদীর তীব্র ভাঙন, বাড়ছে বন্যার আশঙ্কা

উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং নদ-নদীর পানি ওঠানামার প্রভাবে কুড়িগ্রামের ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও দুধকুমার নদে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেড় শতাধিক পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। একই সঙ্গে হাজারো পরিবার নতুন করে ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আবারও বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নদটির পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে বা তা অতিক্রম করতে পারে। এতে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি নদীভাঙনের তীব্রতাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, জেলার ৪০টি ভাঙনকবলিত স্থানের মধ্যে ৩০টিতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে নদীতীর রক্ষার কাজ চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৪ জুলাই) পাউবোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি কিছুটা কমলেও তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ছে। তবে বর্তমানে জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলার সদর, ফুলবাড়ী, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারী ও রাজারহাটসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৪০টি স্থানে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র, আবাদি জমি, বসতবাড়ি, সড়ক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীভাঙন তাদের জীবনের স্থায়ী দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে পাঁচ থেকে দশবার পর্যন্ত বসতভিটা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। এবার ভিটেমাটি হারালে তাদের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়ও থাকবে না। তাই তারা স্থায়ী নদীশাসন ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা লেবু মিয়া জানান, গত কয়েক বছর ধরে দুধকুমার নদের ভাঙনে এলাকার অসংখ্য পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। এখন পুরো গ্রামই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গ্রামটির পাশাপাশি একটি বিদ্যালয়, স্থানীয় হাট এবং বিজিবি ক্যাম্পও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
একই এলাকার শাহিনা বেগম বলেন, নদীর ভাঙন তাদের বাড়ির একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। বাধ্য হয়ে ঘর সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। তবে নতুন করে কোথায় আশ্রয় নেবেন, সে বিষয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে পাঁচটি প্রধান নদীর দুই তীর মিলিয়ে প্রায় ৩৭৪ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনপ্রবণ। অথচ এর মধ্যে মাত্র ৬৬ কিলোমিটার নদীতীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হয়েছে। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ নদীভাঙনের উচ্চ ঝুঁকিতে পড়ে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে প্রতিরোধমূলক কাজ চালানো হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।








