Logo

কালীরহাটে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই কোটি টাকার আম বেচাকেনা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ফুলবাড়ী, দিনাজপুর
৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৬
কালীরহাটে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই কোটি টাকার আম বেচাকেনা
ছবি: প্রতিনিধি

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর কালীরহাটে জমে উঠেছে মৌসুমের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি আমের বাজার। কৃষক, বাগান মালিক, আড়তদার ও পাইকারদের পদচারণায় মুখর এ বাজারে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই কোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

জেলার বৃহত্তম আমের পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত মনোহরপুর কালীরহাটে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত পিকআপ, ইজিবাইক, নছিমন ও করিমনে করে আম আসে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর এবং রংপুরের বদরগঞ্জ ও মিঠাপুকুরসহ বিভিন্ন এলাকার আম এখানে বিক্রি হচ্ছে। এখান থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন ট্রাকভর্তি আম পাঠানো হচ্ছে।

বর্তমানে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম প্রতি মণ (৪৫ কেজি) এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকা, হিমসাগর দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকা এবং আম্রপালি এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

খুলনা থেকে আসা ক্রেতা খাদিজা আক্তার বলেন, কালীরহাটের আমের সুনাম শুনে এসেছি। এখানকার আম সুস্বাদু ও ভালো মানের। তাই বাড়িতে নেওয়ার জন্য হাঁড়িভাঙা ও আম্রপালি কিনেছি।

ফুলবাড়ীর ক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, এবার আমের দাম তুলনামূলক কম থাকায় বিভিন্ন জাতের ৫০ কেজি আম কিনেছি।

ঢাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সোবহান জানান, তিনি প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ ক্যারেট আম ঢাকায় পাঠান। তাঁর ভাষ্য, এ অঞ্চলের আমের চাহিদা বরাবরই ভালো। তবে এবার উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহও বেশি, ফলে দাম কিছুটা কম রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণে ফলন কম হওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা। শিবনগর ইউনিয়নের আমচাষি খন্দকার মেহেদী হাছান বলেন, “এবার বাজারদর কম থাকায় প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না।”

রঘুনাথপুর গ্রামের আমচাষি মো. আকতারুজ্জামান ও দেশমা হাট এলাকার চাষি লিটন বেপারীও জানান, ফলন তুলনামূলক কম এবং বাজারদর প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় লাভের পরিমাণ কমে গেছে।

বিজ্ঞাপন

কালীরহাট আম বাজারের আড়তদার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও সাফিউল ইসলাম জানান, এলাকায় বর্তমানে ৪৫ থেকে ৫০টি আমের আড়ত রয়েছে। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ জন পাইকার এখানে আম কিনতে আসেন এবং ২০ থেকে ২৫টি ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আম পাঠানো হয়। এ বাজারকে কেন্দ্র করে প্রায় এক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, উপজেলায় প্রতিবছর হাঁড়িভাঙা আমের চাষ বাড়ছে। লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক ধানক্ষেতেও আমের বাগান করছেন। এঁটেল ও দো-আঁশ মাটি এ জাতের আম চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD