বারহাট্টায় ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রকল্পে টয়লেট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রকল্পের আওতায় টয়লেট নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট, ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই এবং দুর্বল কাঠামোর কারণে উদ্বোধনের আগেই অনেক টয়লেটে ফাটল ও প্লাস্টার খসে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ রয়েছে, টয়লেটের পিলারে প্রয়োজনীয় রডের খাঁচার পরিবর্তে কোথাও একটি মাত্র রড ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া রডের পরিবর্তে জিআই তার, নিম্নমানের কাঠ ও অপ্রতুল টিন ব্যবহারের কারণে অনেক টয়লেটের ছাউনি দিয়ে শুরু থেকেই পানি পড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি টয়লেটের দেয়াল ও ঢালাইয়ের অংশ হাতের চাপেই ভেঙে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর বিটবালু ও অপর্যাপ্ত সিমেন্ট ব্যবহারের কারণেই নির্মাণকাজের এমন অবস্থা। অনেক উপকারভোগী নিজেদের অর্থে অতিরিক্ত দুই থেকে তিন বস্তা সিমেন্ট কিনে দিলেও কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
বিজ্ঞাপন
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বারহাট্টা উপজেলা শাখা সূত্রে জানা গেছে, ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রকল্পের আওতায় সাহতা ইউনিয়নের ডেমুড়া গ্রামে ১৯০টি টয়লেট নির্মাণের কাজ চলছে। প্রতিটি টয়লেট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪ হাজার ৯৭৯ টাকা। সে হিসেবে প্রকল্পের মোট ব্যয় ৮৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯১০ টাকা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও অনেক উপকারভোগীর বাড়িতে নির্মাণসামগ্রী পৌঁছেনি বলে জানা গেছে।
উপকারভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নিজের টাকায় সিমেন্ট কিনে দিতে হয়েছে। এরপরও নির্মাণকাজের মান সন্তোষজনক হয়নি।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা শামসুজ্জামান কানন বলেন, এলাকার প্রায় সব টয়লেটের কাজই নিম্নমানের হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই অনেক টয়লেটে ফাটল দেখা দিয়েছে। আমরা বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।
অভিযোগের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. বিদ্যুৎ মিয়া বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক কাজের তদারকি করছি। অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।








