পীরগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষে বাড়ছে কৃষকের লাভ

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে প্রচলিত মৌসুমের বাইরে তরমুজ চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট কৃষকেরা। লাভজনক এ ফসলের আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
বিজ্ঞাপন
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তরমুজ সাধারণত গ্রীষ্মকালীন ও মৌসুমি ফল হিসেবে পরিচিত। তবে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও পরিবর্তিত চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে পীরগঞ্জে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অসময়ে তরমুজ চাষ বাড়ছে। কয়েক বছর আগে হাতে গোনা কয়েকজন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে এ চাষ শুরু করলেও এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে আবাদ করছেন।
গত বছর উপজেলায় প্রায় ১০০ একর জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ হয়েছিল। এবার সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৫০ একরে দাঁড়িয়েছে। কৃষকেরা বলছেন, ফলন ও বাজারদর—দুটিই ভালো পাওয়ায় এ চাষে তাঁদের আগ্রহ বাড়ছে।
উপজেলার দানাজপুর গণেশ ফার্মে সেতাবগঞ্জ সুগার মিলের জমি ইজারা নিয়ে কয়েক বছর ধরে অসময়ে তরমুজ চাষ করছেন কৃষক আব্দুল কাদের। এবার তিনি প্রায় ছয় বিঘা জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
আব্দুল কাদের বলেন, প্রতি বছরই অসময়ে তরমুজ চাষ করে ভালো লাভ পান। এবারও ফলন ভালো হয়েছে। বর্তমানে পাইকাররা মাঠ থেকেই প্রতি কেজি তরমুজ প্রায় ৩০ টাকা দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
গণেশ ফার্মের তরমুজ চাষি রজব আলী, কালি চরণ ও জহিরুল ইসলাম জানান, এবার সেখানে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে।
তাঁরা জানান, এক বিঘা জমিতে তরমুজ চাষে খরচ হয় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। বিক্রি করে পাওয়া যায় এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। মাঠ থেকেই পাইকাররা তরমুজ কিনে নেওয়ায় বাজারজাত নিয়েও কোনো সমস্যায় পড়তে হয় না। চাষের পর মাত্র দুই মাসের মধ্যেই তরমুজ তোলা যায়। অল্প সময়ে ভালো লাভ হওয়ায় আগামী বছর আরও বেশি জমিতে চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
বিজ্ঞাপন
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, তরমুজ চাষের প্রধান মৌসুম জানুয়ারি থেকে এপ্রিল। তবে কয়েক বছর ধরে কৃষকেরা আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অসময়ে তরমুজ চাষ করছেন। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় ফলন ও স্বাদ ভালো হচ্ছে।
তিনি বলেন, অসময়ে তরমুজ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ। তবে এ চাষে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে তরমুজের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।








