কৃষকরা পেল মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড, যে সুবিধা পাবেন তারা

কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো কৃষকদের জন্য চালু হয়েছে ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’। জমিতে সার ব্যবহারের তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রকৃত কৃষক শনাক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কৃষি বিভাগ এই কার্ড চালু করেছে। জেলার নয় উপজেলার মধ্যে চিলমারী দিয়ে শুরু হয়েছে বিতরণ কার্যক্রম।
বিজ্ঞাপন
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে চিলমারীতে কৃষকদের মধ্যে কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্য উপজেলাগুলোতেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক কখন কোন ধরনের সার এবং কী পরিমাণ সার সংগ্রহ করছেন, তার তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে। এতে প্রকৃত কৃষক চিহ্নিত করার পাশাপাশি সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা সহজ হবে।
তবে কার্ড চালুর পাশাপাশি সার না পাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কৃষকরা। তাদের দাবি, চলতি আমন মৌসুমে জমিতে সার প্রয়োজন হলেও ডিলারের কাছে গিয়েও অনেক সময় সার পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে কার্ড সংগ্রহের জন্য কৃষি কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে, ফলে অতিরিক্ত সময় ও যাতায়াত খরচ হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
কার্ড নিতে আসা চিলমারীর কৃষক মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘কার্ড তো পেয়েছি, সার তো পাচ্ছি না। সার যদি না দেয়, কার্ড দিয়ে কী হবে? ডিলারের কাছে গেলে বলে সার এখনো আসে নাই। এবার আবাদ করবো কীভাবে।’
বিজ্ঞাপন
চর পাত্রখাতা এলাকার কৃষক বদিউজ্জামান বলেন, ‘সারের জন্য এই প্রথম কার্ড নেওয়া লাগলো। সে কার্ড নিতেও ৩০ টাকা ব্যয় হয়েছে। কার্ড নিয়েও যদি সার পেতাম, তাও হতো।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের নয় উপজেলায় মোট কৃষকের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৮৪ হাজার ৬২০ জন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই, আগস্ট ও চলতি সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে কুড়িগ্রাম জেলার জন্য মোট ১২ হাজার ৪৮৩ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে চার হাজার ৬৪৪ টন।
বিজ্ঞাপন
চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলায় প্রায় ৩২ হাজার কৃষক রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়েছে। রবিবার থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে। কার্ডে একজন কৃষক কোন সার, কখন এবং কী পরিমাণ নিয়েছেন, সেই তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কার্ড সংগ্রহে বাড়তি খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে কার্ড নিলে কোনো অর্থ দিতে হয় না। তবে কেউ বাইরে থেকে কম্পিউটারে কার্ড প্রিন্ট করে নিলে সেই প্রিন্টের জন্য খরচ হতে পারে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চিলমারী থেকে কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার প্রতিটি উপজেলায় কৃষকদের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী অক্টোবর থেকে কার্ডের কার্যক্রম কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে কৃষকের তথ্য এবং কখন কী পরিমাণ সার নেওয়া হয়েছে, তা নিয়মিত লিপিবদ্ধ থাকবে।








