পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশ পেলেন নিষিদ্ধ ঢাবি ছাত্রলীগের নেতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনায় বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা রাইসুল ইসলাম ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এ খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রাইসুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। ময়মনসিংহ জেলার এই নেতা স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের ২০১৪-১৫ সেশনের ছাত্র ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় গত বছরের মার্চে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তখন প্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ১৫ জুলাই ২০২৪ তারিখে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় রাইসুল সরাসরি জড়িত ছিলেন।
৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়েছে ২৬ নভেম্বর, যেখানে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ১,৮০৭ জন। এই তালিকায় রাইসুলের নাম থাকায় শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রনেতারা বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
তারা দাবি করছেন, রাইসুল ইসলামের মতো সন্ত্রাসীকে বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত করা লজ্জার বিষয়। তাদের মতে, তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং এই প্রক্রিয়ায় জড়িত সরকারি কর্ম কমিশনের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা যাচাই করতে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

ঢাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খান বলেছেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী রাইসুল ইসলাম ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে। এটি অত্যন্ত লজ্জার এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় এখনো ফ্যাসিবাদের দোসরদের বহাল থাকার প্রমাণ।
বিজ্ঞাপন
জুলাই আন্দোলনের সময় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ নেতাদের হামলায় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী আহত হন। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাইসুল ইসলাম সরাসরি হামলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের দাবী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত, যাতে দেশের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কাঠামো থেকে অবৈধ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম নির্মূল করা যায়।








