Logo

শেকৃবির নবীনবরণ বর্জন শিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২৬ জুলাই, ২০২৬, ১৭:৩৮
শেকৃবির নবীনবরণ বর্জন শিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
ছবি: সংগৃহীত

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠান বর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তাদের দাবি, অনুষ্ঠানে কেবল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক এবং সহাবস্থানের পরিবেশের পরিপন্থী।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পেয়ে প্রতিবাদস্বরূপ ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

অনুষ্ঠান বর্জনের সময় তারা প্রশ্ন তোলেন, যেসব শিক্ষার্থী বক্তব্য দিয়েছেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর নির্বাচিত প্রতিনিধি কি না। তাদের অভিযোগ, ছাত্রদলের প্রতিনিধিদের প্রায় ২১ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও অন্য কোনো ছাত্রসংগঠনকে একই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে বজায় থাকা সহাবস্থান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক আবুল বাশারসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আগের কমিটির এক নেতাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, নবীনবরণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক অনুষ্ঠান, এটি কোনো নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি নয়। তার অভিযোগ, একটি বিশেষ ছাত্রসংগঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা আবারও দেখা যাচ্ছে, যা বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গঠনের লক্ষ্য ও চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন মতাদর্শের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে আন্দোলন করে ঐক্যের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত ছিল সেই পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা। কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি সব ছাত্রসংগঠনের জন্য সমান মর্যাদা ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্য দূর করা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আয়োজনে আবারও বৈষম্যের চিত্র দেখা গেছে। তার ভাষ্য, অতীতে যেমন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো, এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, যদি কোনো ছাত্রসংগঠনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে অন্য সংগঠনগুলোকেও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কেবল একটি সংগঠনকে সুযোগ দেওয়া বৈষম্যের শামিল। এই অবস্থানের প্রতিবাদেই তারা নবীনবরণ অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আরফান আলী বলেন, অনুষ্ঠানে চারজন ডিন, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সদস্য এবং বাইরে থেকে আসা গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের বক্তব্য থাকায় সময়ের সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। এজন্য সবাইকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠানে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং সব পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা থাকবে। তবে এত বড় একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন থেকে শিক্ষার্থীদের এভাবে বেরিয়ে যাওয়া কাম্য ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD