চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-কার সেবা বন্ধ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক কার (ই-কার) সেবা। ড্রাইভারদের সঙ্গে অসদাচরণ, হুমকি ও শারীরিক আক্রমণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
ই-কার পরিচালনা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু শিক্ষার্থীর আচরণ নিয়ে ড্রাইভারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ড্রাইভারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ই-কার ম্যানেজারের ওপর হামলার চেষ্টা এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি কয়েকজন চালককে জোর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
ই-কারের সহকারী ইনচার্জ মো. মোরশেদ আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু শিক্ষার্থীর অসৌজন্যমূলক আচরণ সহ্য করে আসছিলেন ড্রাইভাররা। সর্বশেষ এক ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ই-কার ম্যানেজারের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার চেষ্টা করে। এর আগে প্রায় সব চালকই কোনো না কোনোভাবে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। প্রায় ২০ দিন আগে এক ড্রাইভারকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে এবং এক মাস আগে আরেকজনকে ক্যাম্পাস ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, এসব ঘটনার পর ড্রাইভারদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই আজ থেকে ই-কার সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন, এ বিষয়ে আগামীকাল লিখিত অভিযোগ দিবেন ই-কার কতৃপক্ষ। বর্তমানে ১২টি ই-কারের মধ্যে ৯টি সচল ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি ই-কার দিয়ে এই সেবা চালু করা হয়। পরবর্তীতে আরও ছয়টি যুক্ত হয়ে মোট ১২টি ই-কার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যবহৃত হচ্ছিল।








