Logo

রাজশাহী নার্সিং কলেজ ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
রাজশাহী
২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:৫৪
রাজশাহী নার্সিং কলেজ ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাজশাহী নার্সিং কলেজে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এর ফলে কলেজের ক্লাস, পরীক্ষা এবং হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে স্থায়ী অধ্যক্ষ না থাকায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তাই দ্রুত অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে তারা এই কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। পরে কলেজের বিভিন্ন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কার্যকর করেন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

বিজ্ঞাপন

এদিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানায় রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং অনুষদের শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ব্রাইট লাইফ ভলান্টিয়ার্স’। সংগঠনের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ, সদস্য তানজিদ হাসান, মেহেদি হাসানসহ আরও অনেকে উপস্থিত থেকে আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত শনিবার থেকে তারা অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। সে সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। সোমবার সেই সময়সীমা শেষ হলেও কোনো নিয়োগ আদেশ না আসায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার থেকে পূর্ণ শাটডাউন শুরু হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, প্রায় তিন মাস ধরে অধ্যক্ষের পদ শূন্য থাকায় কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাদের মতে, দেশের অন্যান্য নার্সিং কলেজে ইতোমধ্যে অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হলেও রাজশাহী নার্সিং কলেজে অজানা কারণে এখনো পদটি শূন্য রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সম্প্রতি দেশের অন্তত তিনটি নার্সিং কলেজে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী নার্সিং কলেজের ক্ষেত্রে একই ধরনের উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের ধারণা, প্রশাসনিক জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার কারণেই এই বিলম্ব হচ্ছে।

কলেজ-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, শিক্ষক মহলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের গাফিলতির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, সাবেক অধ্যক্ষ মতিয়ারা বেগম অবসরে যাওয়ার সময় কাউকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব না দিয়ে বিদায় নেন। এরপর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যক্ষ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এখন পর্যন্ত নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর থেকে কাউকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ বা পদায়ন করা হয়নি। ফলে প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি একটাই—দ্রুত একজন যোগ্য অধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এদিকে কলেজে শাটডাউন কর্মসূচির কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, পরীক্ষা এবং হাসপাতালভিত্তিক প্রশিক্ষণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক সমাধান না এলে এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD