যুদ্ধবিরোধী গান-কবিতায় ঢাবিতে ব্যতিক্রমী নববর্ষ উদযাপন

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে যখন উৎসবের আবহ, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নধর্মী আয়োজনের মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছে চারটি প্রগতিশীল সংগঠন। যুদ্ধবিরোধী গান, কবিতা এবং প্রতিবাদী উচ্চারণে মুখর এই আয়োজন ছিল সচেতনতা ও প্রতিরোধের বার্তায় ভরপুর।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আয়োজনে উঠে আসে বিশ্বের নানা প্রান্তে চলমান সংঘাত ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান। বিশেষ করে ইরান ও ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রতিরোধ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের পরিবেশনাগুলোতে ধর্মান্ধতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ প্রতিফলিত হয়। গান ও কবিতার মাধ্যমে শিল্পীরা সমাজে মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
বিজ্ঞাপন
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র, বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট এবং কোরাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পীরা। গান ও কবিতা পরিবেশন করেন কবি মোহন রায়হান, দীপক সুমন, কবি সৈকত আমিন, কবি সোয়েব মাহমুদসহ আরও অনেকে।
এছাড়া মাভৈ গানের দল, তাহমীদ চৌধুরী, হুমায়ূন আহমেদ রেওয়াজ, ওয়ারদা আশরাফ, গৌরব ভৌমিক, শিহাব উদ্দিন এবং আমরিন জাহান অপিও পরিবেশনায় অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, বাংলা নববর্ষ কেবল উৎসব নয়, বরং এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।








