২০২৭ সালের মধ্যে সেশনজটমুক্ত বাউবি: ফলাফল নয়, দক্ষতায় গুরুত্ব

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) ২০২৭ সালের মধ্যে সেশনজট সম্পূর্ণ নিরসনের লক্ষ্যে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি অভিভাবকদের সন্তানের ফলাফলকেন্দ্রিক অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা থেকে সরে এসে দক্ষতা ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উপাচার্য বলেন, শুধুমাত্র ভালো ফলাফল অর্জনই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নয়; শিক্ষার্থীদের দক্ষ, সৃজনশীল ও জ্ঞানসমৃদ্ধ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যেই বাউবির শিক্ষা কার্যক্রম আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সেশনজট নিরসনের জন্য ইতোমধ্যে পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অটোমেশন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ফলাফল প্রকাশসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের মধ্যে বাউবিতে সেশনজট পুরোপুরি নিরসন সম্ভব হবে।
বিজ্ঞাপন
উপাচার্য আরও জানান, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাউবি দূরশিক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রান্তিক ও কর্মজীবী মানুষের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র, ৬৩টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং দেড় হাজারের বেশি স্টাডি সেন্টারের মাধ্যমে এসএসসি থেকে পিএইচডি পর্যন্ত বিভিন্ন প্রোগ্রামে সাড়ে তিন লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
দূরশিক্ষণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে মিডিয়া সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ২৪ ঘণ্টার আইপি টিভি চালু এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মজীবীদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং নতুন করে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
উপাচার্য বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বাউবিতে এ ধরনের শিক্ষা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সরকার-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু ফলাফল নয়, শক্তিশালী শিক্ষাগত ভিত্তি ও দক্ষতা অর্জনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তাহলেই একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব হবে।
বিজ্ঞাপন








