শিক্ষাসেবায় আধুনিকায়নে বাউবির জোর

শিক্ষাসেবার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও শিক্ষার্থীসেবা আরও গতিশীল করতে খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্রে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২০ মে) দুপুরে খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্রের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
সভায় খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্র ও এর অধীন উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী এবং টিউটররা অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
উপাচার্য বলেন, দেশের প্রান্তিক, শ্রমজীবী ও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য তিন দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে যাচ্ছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র ও ৬৩টির বেশি সক্রিয় উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে সারাদেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সাতটি দেশে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াতেও কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাউবি একটি ব্যতিক্রমধর্মী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হলেও সীমিত সরকারি সহায়তার কারণে প্রতিষ্ঠানটি মূলত নিজস্ব আয়ের ওপর নির্ভরশীল। আর্থিক সংকট কাটাতে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে অটোমেশন, অনলাইন সেবা ও আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, পরীক্ষাব্যবস্থা, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও শিক্ষার্থীসেবা সহজ করতে নতুন সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে হাজারো শিক্ষার্থীর অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
স্টেকহোল্ডার, সমন্বয়কারী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সম্মানীর বিষয় পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কার্যক্রম আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান তিনি।
উপাচার্য বলেন, “স্টেকহোল্ডাররাই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণশক্তি। তাদের সম্মান ও প্রত্যাশা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” এ সময় তিনি আগাম পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছাও জানান।
বিজ্ঞাপন
এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান আঞ্চলিক কেন্দ্রে মিষ্টি জলপাই গাছের একটি চারা রোপণ করেন। পরে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টি.এম আহমেদ হুসেইন নিম গাছের একটি চারা রোপণ করেন।
খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক মোহাম্মদ মাহমুদুল আমিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টি.এম আহমেদ হুসেইন। তিনি শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও সেবার মানোন্নয়নে স্টেকহোল্ডারদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব করার আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক করতে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাহবুবর রহমান। এতে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্টাডি সেন্টারের সমন্বয়কারী ও টিউটররা উপস্থিত ছিলেন।








