Logo

ঢাবি ছাত্রীর আত্মহত্যা : ‘পুলিশ হেফাজতে’ শিক্ষক-শিক্ষার্থী

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:১৪
ঢাবি ছাত্রীর আত্মহত্যা : ‘পুলিশ হেফাজতে’ শিক্ষক-শিক্ষার্থী
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার পর পুলিশ বিভাগের এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে।

জানা গেছে, মুনিরা মাহজাবিন মিমো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। রবিবার সকালে নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিভাগীয় সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে কিছু তথ্য-উপাত্ত এবং একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। ওই চিরকুটে এক শিক্ষকের নাম উল্লেখ ছিল বলে জানিয়েছেন বিভাগের চেয়ারম্যান। এছাড়া ছাত্রীর মোবাইল ফোন থেকেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ, যা তদন্তে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা বলেন, সকালে খবর পাওয়ার পর বিভাগের শিক্ষকরা বাড্ডায় শিক্ষার্থীর বাসায় যান। পরে ঘটনাস্থল ও মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া কিছু তথ্যের ভিত্তিতে বিভাগের এক শিক্ষকের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ওই শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ এক বান্ধবীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখন পুলিশের অধীনে রয়েছে। বিভাগের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে গুলশান বিভাগের বাড্ডা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল জানান, ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া কিছু আলামত ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বিভাগের এক শিক্ষককে আপাতত পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই ঘটনায় ছাত্রীর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সহপাঠী ও শিক্ষকেরা বলছেন, মুনিরার এই আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD