বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে গলা কেটে হত্যা

রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় ফাতেমা আক্তার লিলি (১৭) নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার পর থেকে বিকেল সাড়ে তিনটার মধ্যে দক্ষিণ বনশ্রীর প্রধান সড়কে অবস্থিত ‘প্রীতম বিলায়’ নামের একটি ভবনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত লিলি স্থানীয় রেডিয়েন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, লিলির বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার বামৈন গ্রামে। তার বাবা সজীব মিয়া। পরিবার বনশ্রীতে ভাড়া বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছিল।
নিহতের বড় বোন শোভা জানিয়েছেন, পরিবারের বাবা-মা জমিজমা সংক্রান্ত কাজের জন্য বুধবার (৭ জানুয়ারি) গ্রামে গেছেন। তাদের হোটেলের কর্মচারী মিলন বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে খাবার নিতে বাসায় আসে, তখন লিলির সঙ্গে তার কিছুটা অসন্তোষজনক ঘটনা ঘটে।
শোভা জানান, আজ দুপুরে জিম থেকে ফিরে দেখি ঘরের দরজা খোলা ও ভেতরের সবকিছু এলোমেলো। বোনকে একটি পাতিলের নিচে কুঁকড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রথমে ভাবলাম মাথায় আঘাত পেয়েছে, পরে হিজাব খুলে দেখি গলায় রশি প্যাঁচানো এবং গলা বঁটি দিয়ে কাটা।
বিজ্ঞাপন
শোভা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের সময় বাড়ির মালিক বা অন্য কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। পরে এক বন্ধুর সহায়তায় রিকশায় করে লিলিকে ফরাজী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, বিকেলের দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ফরাজী হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে গিয়ে দেখি লিলির গলা কাটা। হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা বলছেন, লিলির পরিবার ও আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করেছে।








