তিন দিনে ৩৬ হাজার টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ করেছে ডিএসসিসি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট ও কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ঈদের দিন থেকে শনিবার (৩০ মে) রাত ১২টা পর্যন্ত মাত্র তিন দিনে মোট ৩৬ হাজার ৮৬ টন বর্জ্য সংগ্রহ ও মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে চূড়ান্তভাবে ডাম্পিং করা হয়েছে, যেখানে প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৩ হাজর নয়শ ৪২ টন।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৩১ মে) নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ডিএসসিসি প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিন দিনের বর্জ্য অপসারণের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম দিন ১৪ হাজার আটশ ১৪ টন, দ্বিতীয় দিন ৮ হাজার নয়শ ৭৭ টন, তৃতীয় দিন ১২ হাজার দুইশ ৯৫ টনসহ মোট অপসারিত বর্জ্য : ৩৬ হাজার ৮৬ টন।
বিজ্ঞাপন
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে ডিএসসিসির নিজস্ব ও পিসিএসপি সহ মোট ১৩ হাজার চারশ ৫৩ জন কর্মী মাঠপর্যায়ে দিনরাত কাজ করেছেন। বর্জ্য পরিবহনে তিনশ ৮২টি বিশেষ যান-যন্ত্রপাতিসহ মোট ২ হাজার ১১৭টি ছোট-বড়ো গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ডিএসসিসি নির্ধারিত তিনশ ৫৭টি স্থানে গত তিন দিনে মোট ১৭ হাজার ৩১৫টি পশু কোরবানি করা হয়।
ঈদের আগে জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি, টিভিসি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে ব্যাপক মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা চালানো হয়েছিল। নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করতে ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, দুইশ ১০ গ্যালন (১ হাজার ৫০ লিটার) স্যাভলন এবং একলাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। সচেতন নাগরিকেরা বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দারুণ সহযোগিতা করেছেন। সচেতনতার এই ইতিবাচক পরিবর্তন ধরে রেখে একটি পরিচ্ছন্ন ঢাকা বিনির্মাণ সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থেকে সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে কর্মীদের মনোবল বাড়ানো এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, কোরবানির ১১টি অস্থায়ী হাটের বর্জ্য অপসারণে শর্ত অনুযায়ী, ইজারাদাররা নির্ধারিত সময়ে কাজ না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। জনভোগান্তি এড়াতে সিটি করপোরেশন নিজ দায়িত্বে এসব বর্জ্য অপসারণ করেছে, যা সামগ্রিক কার্যক্রমকে কিছুটা শ্লথ ও চ্যালেঞ্জিং করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে শর্তভঙ্গকারী ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত ও কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে হাটের জামানতের অঙ্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জনভোগান্তি তৈরিকারীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
বিজ্ঞাপন
কোরবানির কার্যক্রম সমাপ্ত হলেও ডিএসসিসির তদারকি টিম এখনো মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে। ডিএসসিসি এলাকার কোথাও কোনো বর্জ্য জমে থাকতে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর: ০১৭০৯৯০০৮৮৮ এবং ০২২২৩৩৮৬০১৪-এ জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সংবাদ পাওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে উক্ত বর্জ্য অপসারণ করা হবে বলে জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।
প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, টানা তিন দিন কোরবানি, বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র পশুর চামড়া ফেলে রাখা এবং মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে যাওয়ার পথে যাত্রাবাড়ী এলাকায় তীব্র যানজটের কারণে কিছু সাময়িক ও অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এ কারণে নগরবাসীর কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানীকে একটি ‘পরিচ্ছন্ন নগরী, সবুজ নগরী’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নগরবাসীকে উন্নত সেবা দিতে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।







