ছেলেরা যুগ্মসচিব ও বুয়েটের শিক্ষক, নিঃসঙ্গ ঘরে মরে পড়ে ছিল বৃদ্ধ মা

রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে এক বৃদ্ধার গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বৃদ্ধার বয়স আনুমানিক ৭৫ বছর। নূরজাহান বেগম নামে ওই বৃদ্ধা একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলায় মেয়ের বাসার একটি কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে নিঃসঙ্গ জীবন-যাপন করেছিলেন। অন্তত, ৪-৫ দিন আগে মৃত্যু হলেও মায়ের খোঁজ নেয়নি কেউ।
বিজ্ঞাপন
রবিববার (৩১ মে) রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পল্লবী ৬ নম্বর সেকশনের ৮ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পল্লবী থানা পুলিশ।
পরে সোমবার (১ জুন) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যে বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সেটি নূরজাহান বেগমের মেয়ের বাসা। তার স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি মারা যান। তার এক ছেলে যুগ্ম সচিব এবং আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা পরিবারসহ অন্যত্র থাকতেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বুয়েটের শিক্ষক সন্তান এলেও যুগ্মসচিব ছেলে আসেননি।
ওসি হাসান বলেন, ‘ওই বৃদ্ধা বাসার যে কক্ষে থাকতেন, সেটি আবর্জনায় ভরা ছিল। দেখে মনে হয়েছে কয়েক বছরে কেউ সেখানে প্রবেশ করেনি। মরে কয়েকদিন পড়ে থাকলেও মেয়ে খোঁজ নেননি মায়ের।’
তার ভাষ্য, রবিবার তার মেয়ে মাকে ডাকতে গেলে সাড়া না পেয়ে একজন নার্সকে ডাকেন। তিনি ভেবেছিলেন তার মা অসুস্থ। পরে নার্স বাসায় এসে দেখতে পান তিনি মারা গেছেন। এরপর বের হয়ে মানুষজনকে জানালে প্রতিবেশীরা জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা
ওসি বলেন, ‘ভুক্তভোগী বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে স্বাভাবিক মনে হয়নি। মা মরে পচে আছেন, অথচ তিনি নাকি গন্ধও পাননি। তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতার কারণে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নূরজাহান বেগমের বুয়েটে কর্মরত ছেলে মরদেহ গ্রহণ করেছেন বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন








