হাদি হত্যা: ফয়সালের সহযোগী রুবেল ফের ৩ দিনের রিমান্ডে

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ফয়সাল রুবেল আহমেদকে আবারও তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
বিজ্ঞাপন
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর বুধবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন। তদন্তের স্বার্থে তাকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
গত ২১ জানুয়ারি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরদিন তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। সেই রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন সিআইডির ঢাকা মহানগর পূর্ব জোনের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসা হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে গেলে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা দুর্বৃত্ত গুলি চালায় বলে অভিযোগ।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
বিজ্ঞাপন
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার দুই দিন পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে তার মৃত্যু হলে মামলায় হত্যা ধারা (৩০২) যুক্ত হয়। প্রথমে থানা পুলিশ, পরে ডিবি পুলিশের কাছে তদন্তের দায়িত্ব যায়।
তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। অভিযোগপত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
তবে ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দেন মামলার বাদী। আদালত পরে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেয়। মামলার তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলমান রয়েছে।








