Logo

সাগর–রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪:৫৪
সাগর–রুনি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি | ফাইল ছবি

আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এবার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে আদালত। নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, এদিন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হন।

প্রতিবেদন না আসায় আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে আগামী ১ এপ্রিল। এর মধ্য দিয়ে সাগর–রুনি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা মোট ১২৪ বার পিছিয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে নিজ বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। ঘটনার পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রথমে মামলাটির তদন্তভার ছিল সংশ্লিষ্ট থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) হাতে। ঘটনার চার দিনের মাথায় বহুল আলোচিত এ মামলার তদন্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)। তবে দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত চালিয়েও ডিবি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিনেও অগ্রগতি না হওয়ায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মামলাটির তদন্তে নতুন মোড় আনে। আদালত বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন এবং ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে বলেন। একই সঙ্গে র‌্যাবকে তদন্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশও দেন হাইকোর্ট।

এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)-এর প্রধানকে আহ্বায়ক করা হয়।

বিজ্ঞাপন

মামলায় এ পর্যন্ত যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন— রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর–রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের পরিচিত তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর রহমান জামিনে রয়েছেন। পলাশ রুদ্র পাল জামিনে মুক্তি পেয়ে পরে পলাতক হন। অন্য আসামিরা বর্তমানে কারাগারে আছেন।

দীর্ঘ সময়েও তদন্ত শেষ না হওয়ায় নিহতদের পরিবার ও সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। আদালতের শোকজ আদেশকে অনেকেই তদন্তে গতি ফেরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এখন দেখার বিষয়, নতুন সময়সীমার মধ্যে তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসে কি না।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD