ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা স্থগিতের রিট

ঢাকা-১১ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা স্থগিতের দাবিতে করা রিট আবেদনটি ভুয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা রিউমর স্ক্যানার।
বিজ্ঞাপন
দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল প্রতীক) প্রার্থী শামীম আহমেদ।

আবেদনে দাবি করা হয়েছে, নাহিদ ইসলাম ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র ডোমিনিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন, যা সংবিধান ও নির্বাচনী আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দায়ের করা এই রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের সচিব, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নাহিদ ইসলামকে বিবাদী করা হয়েছে। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন

তবে রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, নাহিদ ইসলাম ডোমিনিকার নাগরিকত্ব নিয়েছেন—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পাসপোর্টের ছবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও সম্পাদিত। সংস্থাটি গত ২০ জানুয়ারি প্রকাশিত এক ফ্যাক্টচেকে জানায়, ইন্টারনেট থেকে ডোমিনিকার একটি নমুনা বা ডেমো পাসপোর্ট সংগ্রহ করে তাতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নাহিদ ইসলামের ছবি ও স্বাক্ষর যুক্ত করে এই জাল পাসপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘Paulo Travels’ ও ‘uruperu’ নামের ওয়েবসাইটে থাকা ডোমিনিকান পাসপোর্টের নমুনার সঙ্গে প্রচারিত পাসপোর্টটির একাধিক বৈশিষ্ট্য হুবহু মিলে গেছে। এমনকি উভয় পাসপোর্টের বারকোড স্ক্যান করলে একই কোড প্রদর্শিত হয়, যা বৈধ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অসম্ভব। কারণ প্রতিটি আসল পাসপোর্টের মেশিন রিডেবল কোড সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য আলাদা ও অনন্য হয়ে থাকে।

এছাড়া পাসপোর্টে ব্যবহৃত নাহিদ ইসলামের স্বাক্ষরটি উইকিপিডিয়ায় থাকা তার স্বাক্ষরের ছবির সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল রয়েছে বলে জানিয়েছে রিউমর স্ক্যানার।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্বাক্ষরটি অনলাইন উৎস থেকে সংগ্রহ করে পাসপোর্টে বসানো হয়েছে। একইভাবে ব্যবহৃত ছবিটিও একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নাহিদ ইসলামের ছবির সঙ্গে অবিকল মিলে যায়।

রিউমর স্ক্যানারের উপসংহারে বলা হয়েছে, অনলাইনে থাকা একটি নমুনা পাসপোর্ট সম্পাদনার মাধ্যমেই নাহিদ ইসলামের নামে এই বানোয়াট নথিটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে ডোমিনিকার নাগরিকত্ব গ্রহণের দাবিটি বিভ্রান্তিকর ও অসত্য।
উল্লেখ্য, ঢাকা-১১ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গুলশান এলাকার ২১, ২২, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড এবং সবুজবাগ এলাকার ২৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।
বিজ্ঞাপন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপি, এনসিপি, জাতীয় পার্টিসহ একাধিক রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম জামায়াত ঐক্য জোটের প্রার্থী হিসেবে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।








