আদালতে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে সিঁড়ি থেকে পড়ে গেলেন শিরীন শারমিন

হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
তবে আদালতের কার্যক্রম শেষে তাকে জেলহাজতে নেওয়ার সময় অপ্রীতিকর এক ঘটনা ঘটে। আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় এবং ধাক্কাধাক্কির মধ্যে সিএমএম কোর্টের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান শিরীন শারমিন চৌধুরী। এতে তিনি ব্যথায় চিৎকার করে ওঠেন। পরে দায়িত্বে থাকা নারী পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে তুলে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে এনে প্রিজন ভ্যানে তুলে দেন।
আরও পড়ুন: কারাগারে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন
এর আগে দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী শুনানিতে বলেন, আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার পেছনের পরিকল্পনা উদঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার মামুন যুক্তি তুলে ধরে বলেন, শিরীন শারমিন চৌধুরী একজন সুপরিচিত আইনজীবী এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অনেক দেরিতে করা হয়েছে। তিনি নিজ উদ্যোগেই দায়িত্ব ছেড়েছেন উল্লেখ করে মানবিক কারণে জামিন প্রার্থনা করেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত রিমান্ড ও জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় মো. আশরাফুল (ফাহিম) স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনায় এবং শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রত্যক্ষ মদদে হামলাটি সংঘটিত হয়। মামলায় তাকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার সংশ্লিষ্টতা এবং সহিংস ঘটনার পরিকল্পনায় ভূমিকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।








