Logo

গুম অধ্যাদেশ প্রয়োজন ছিল না, ট্রাইব্যুনাল আইনেই বিচার সম্ভব

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:২১
গুম অধ্যাদেশ প্রয়োজন ছিল না, ট্রাইব্যুনাল আইনেই বিচার সম্ভব
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের অভিযোগের বিচার করতে পৃথক কোনো অধ্যাদেশের প্রয়োজন ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তার মতে, গুম সংক্রান্ত অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা আগে থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে নতুন করে আলাদা আইন বা পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রয়োজনীয়তা ছিল না।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুম অধ্যাদেশে যে অপরাধের কথা বলা হয়েছিল, সেটি ইতোমধ্যেই ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় ছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে গুমের অভিযোগ তদন্ত ও বিচার করার এখতিয়ার আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। সে কারণে নতুন করে একটি আলাদা আইন প্রণয়ন কিংবা ভিন্ন ট্রাইব্যুনাল গঠনের যৌক্তিকতা তিনি দেখেননি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গুমের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের মাধ্যমেই সম্ভব। এই ক্ষমতা আগে থেকেই ছিল। তাই আলাদা অধ্যাদেশ প্রণয়নকে আমরা প্রয়োজনীয় বলে মনে করিনি।

তিনি আরও বলেন, যদি গুম অধ্যাদেশ বাতিল করে তা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সঙ্গে একীভূত করা হয়ে থাকে, তাহলে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাতে হবে। এ জন্য তিনি আইনমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

আমিনুল ইসলাম বলেন, গুম অধ্যাদেশকে ট্রাইব্যুনাল আইনের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আলাদা অধ্যাদেশ না রেখে বিদ্যমান আইনের মধ্যেই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা অধিকতর যৌক্তিক ও কার্যকর।

বিজ্ঞাপন

চিফ প্রসিকিউটরের মতে, একই ধরনের অপরাধ বিচারের জন্য একাধিক আইন কার্যকর থাকলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি দেখা দিতে পারে এবং বিভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হয়। তাই বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় গুমের বিচার পরিচালনা করা হলে তা আরও সুসংহত ও কার্যকর হবে।

এদিকে, গুমের অভিযোগকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে বিচারযোগ্য করতে জাতীয় সংসদে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (সংশোধন) বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলটি পাস হয়।

বিজ্ঞাপন

নতুন সংশোধনের ফলে গুমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে গুমের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য হবে এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধের বিচারিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে দেশের আইনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেও সহায়ক হবে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন সংশোধনের ফলে অতীতে সংঘটিত গুমের অভিযোগ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্যও ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও উন্মুক্ত হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD