ছেলেকে পরিকল্পিত হত্যার দাবি মায়ের, স্ত্রীসহ ৭ জনকে আসামি করে মামলা

‘আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ঘরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে’— এমন অভিযোগ তুলে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এক যুবকের মা।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের স্ত্রী ও নিহত শ্যামল মিয়ার মা সরুফা আক্তার।
মামলায় নিহতের স্ত্রী সুমা আক্তারসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন, নোয়াগাঁও গ্রামের ইমরান মিয়া, সারোয়ার হোসেন, আকিক মিয়া, শামীম মিয়া, আঙ্গুরা বেগম এবং ইসলামপুর গ্রামের সুজন মিয়া।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সরুফা আক্তার ঢাকার গাজীপুর এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার ছেলে শ্যামল মিয়া গ্রামের বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। জায়গা-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্তদের সঙ্গে শ্যামলের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ২ এপ্রিল সকালে মোবাইল ফোনে ছেলের মৃত্যুর খবর পান সরুফা আক্তার। পরে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে জানতে পারেন, তাহিরপুর থানা পুলিশ শ্যামলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন জমি নিয়ে বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে শ্যামলকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
বিজ্ঞাপন
নিহতের স্ত্রী সুমা আক্তারের আচরণ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বাদী। তিনি জানান, ঘটনার আগের দিন সুমা বাবার বাড়ি বা অন্যত্র বেড়াতে গিয়ে রাতযাপন করেন। পরদিন সকালে এসে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাওয়ার দাবি করেন তিনি। ঘটনার সময় স্ত্রীর অনুপস্থিতি এবং তার আচরণে পরিবারের সন্দেহ আরও গভীর হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, ছেলের মৃত্যুর পর মামলা না করার জন্য আসামিরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে। এমনকি গত ১৪ এপ্রিল স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) আবেদন করতেও তাকে বাধ্য করা হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নিহতের মা সরুফা আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। জমি দখলের জন্য আমার বুক খালি করে দিয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, শ্যামল নামের এক যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনায় তার মায়ের আবেদনের ভিত্তিতে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এখন আদালতে হত্যা মামলা হয়ে থাকলে আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








