আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানহানি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১৪ জুন) দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে তিনি সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট শাকিল মোহাম্মদ শরিফুর হায়দার রফিক সরকার।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগে গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তিনি টুকুকে ‘নাস্তিক’ এবং ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন, যা তার সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনামের ক্ষতি করেছে বলে দাবি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
মামলা দায়েরের দিনই আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন এবং তাকে ২১ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
তবে নির্ধারিত তারিখে তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপরও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী হাজিরা না দেওয়ায় মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় আদালতে অনুপস্থিত থাকায় গত ১৭ মে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। আদালতের এ নির্দেশের মাধ্যমে তাকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পুনরায় আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার তিনি আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতে আত্মসমর্পণের পর মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এই মামলাটি শুরু থেকেই ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এবং পরবর্তীতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক ও আইনগত মহলে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে আদালতে আত্মসমর্পণের পর মামলার শুনানি ও পরবর্তী পদক্ষেপ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হবে। মামলার অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের আইনি মূল্যায়ন বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন সংশ্লিষ্টরা।








