Logo

সাদ্দামকে কাদের বলেছিলেন, ‘তোমরা মারো না কেন? মারো’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:৫৭
সাদ্দামকে কাদের বলেছিলেন, ‘তোমরা মারো না কেন? মারো’
ছবি: সংগৃহীত

আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার জন্য ছাত্রলীগকে উসকানি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের—এমন দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তার ভাষ্য, ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে কথোপকথনের সময় কাদের বলেছিলেন, ‘তোমরা মারো না কেন? মারো।’

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘১১ জুলাই সাদ্দামকে বলা হয়—মারো না কেন, মারো। এরপরই ১৬ জুলাই ওয়াসিম, আবু সাঈদসহ কয়েকজন নিহত হন।’

ওবায়দুল কাদের আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ‘দেখা মাত্রই গুলি করার জন্য বলেছিল।’

বিজ্ঞাপন

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করার বিষয়ে কাদেরের বক্তব্যও ছিল। তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, ওবায়দুল কাদের এটাও বলেছিলেন যে, এই আন্দোলন দমন করার জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিদের উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পর তৎকালীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান। তার দাবি, এভাবে সারাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ওবায়দুল কাদেরের আরেকটি নির্দেশের কথা তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘শুট অ্যাট সাইট, দেখামাত্র গুলির নির্দেশনা আছে।’

তার দাবি, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় বৈঠকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন বলেও তিনি দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

আসামিদের দায়ের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি ও সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির পাশাপাশি ব্যক্তিগত দায়ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় বৈঠকে সব আসামি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাত আসামি

বিজ্ঞাপন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD