Logo

ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠানকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার রায় বহাল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:৪৪
ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠানকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার রায় বহাল
ছবি: সংগৃহীত

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে আপাতত হস্তক্ষেপ করেননি চেম্বার আদালত।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন। আদালত জানান, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে তারা কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না।

গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন আদালতে শুনানি করেন। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ।

পরে ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এনবিআরের অতিরিক্ত কর দাবিকে অবৈধ ঘোষণার জন্য গ্রামীণ কল্যাণ দুটি রিট পিটিশন করেছিল। গত ১০ সেপ্টেম্বর ওই দুটি রিট খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, চেম্বার আদালত জানিয়েছেন, হাইকোর্ট এখনো পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেননি এবং সেই রায় তারা হাতে পাননি। ফলে এই পর্যায়ে মামলায় কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সেটি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আইনজীবী আরও জানান, শুনানির সময় এনবিআর ও রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন যে এ বিষয়ে আপাতত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এ-সংক্রান্ত রুল খারিজ করে আদালত ওই সিদ্ধান্ত জানান।

মামলার পটভূমিতে জানা যায়, ২০১৭ সালে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য এনবিআরের দাবি করা করের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণ পৃথক দুটি রিট করে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গ্রামীণ কল্যাণের করা ওই দুটি রিট খারিজ করে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরে একই বছরের ২৯ আগস্ট ওই রায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

রায় প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে আদালত জানিয়েছিলেন, দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারপতি এর আগে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে তার সংশ্লিষ্টতার কারণে ওই রায় ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

পরে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয় এবং নতুন বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য পাঠানো হয়। পুনর্মূল্যায়নের পর নতুন বেঞ্চ গত ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণের দুটি রিট খারিজ করে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের বিষয়ে হাইকোর্টের রায় দেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD