Logo

স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৪
স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী দুলাল হোসেন ওরফে দুলু ওরফে জুয়েলকে মৃত্যুদণ্ড

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী দুলাল হোসেন ওরফে দুলু ওরফে জুয়েলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার রায়ের আদেশ অনুযায়ী, দণ্ডিত দুলাল হোসেনের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী শারমিনের সঙ্গে দুলাল হোসেনের প্রায় ১৫ বছর আগে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকে দুলালসহ অন্য আসামিরা দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে শারমিনকে মারধর করতেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যৌতুকের দাবিতে শারমিনকে মারধর করা হয়। পরে ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জে দুলালের বসতঘরের ভেতর তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নেভান। গুরুতর অবস্থায় শারমিনকে প্রথমে ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় শারমিনের মা মোসা. মোমেলা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলাটি প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ মোট নয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত দুলাল হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক) ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। ফলে তাকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে মামলার অপর আসামি হারুন, মোরশেনা, সুমাইয়া ও রাজুকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে। মামলার আরেক আসামি জরিনা বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

রায়ে দণ্ডিত আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য তিন কার্যদিবসের মধ্যে মামলার নথি ও রায়ের কপি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠানোর নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD