রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র ২ দিনের রিমান্ডে

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে বাসুদেব গুহ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত হরিদাস চন্দ্র তরণীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে ২৪ আগস্ট ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।
বিজ্ঞাপন
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মাসুদ রানা পরদিন হরিদাস চন্দ্র তরণীকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত ১ সেপ্টেম্বর তাকে মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে ৩ সেপ্টেম্বর তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আসামিকে আদালতে হাজির করে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী মাহবুবুর রহমান ও আসামি ওবাইদুল ইসলাম কলেজজীবনের বন্ধু এবং তারা উত্তরা ১২ নম্বর এলাকায় থাকেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওবাইদুল নিজেকে অনয় ডেভেলপার কোম্পানির মালিক এবং খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় তার অফিস রয়েছে বলে মাহবুবকে জানান।
বিজ্ঞাপন
নিকুঞ্জ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করলে মাহবুব প্রথমে ওবাইদুলকে ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ফ্ল্যাটটির নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে জানিয়ে আরও ১৫ লাখ টাকা চাওয়া হলে সেই অর্থও দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর ওবাইদুল ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে না দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। টাকা ফেরত চাওয়া হলেও তা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে মাহবুব নিকুঞ্জে ওবাইদুলের অফিসে গেলে তাকে জানানো হয়, তার ব্যবসায়িক অংশীদার হরিদাস চন্দ্র তরণী সেখানে আসবেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, পরে হরিদাস সেখানে এসে মাহবুবকে বলেন, তার কাছে টাকা নেই, তবে ফ্ল্যাট রয়েছে এবং তিনি সেটি দিতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
মামলার অভিযোগে বলা হয়, হরিদাসের কথায় বিশ্বাস করে মাহবুব তাকে আরও ৪৫ লাখ টাকা দেন। সব মিলিয়ে ওবাইদুল ও হরিদাসের কাছে তিনি মোট ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন মাহবুব।
এদিকে হরিদাস চন্দ্র তরণীর বিরুদ্ধে এর আগে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। ১২ জুলাই এসআই সাইফুল ইসলাম মামলাটি করেন।
মামলার দিন রাতেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে ওই মামলায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।








