Logo

সংসদে ৩ বিল পাস, গুমের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১:৫৫
সংসদে ৩ বিল পাস, গুমের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা
ছবি: সংগৃহীত

মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার, গুমকে নির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান এবং সম্পত্তিতে আজীবন ভোগস্বত্বের আইনি স্বীকৃতি দিতে জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। বিলগুলো হলো—জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬ এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধনী) বিল ২০২৬।

বিজ্ঞাপন

তবে বিরোধীদলের তীব্র আপত্তি, আইনে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ এবং শেষ পর্যন্ত ওয়াকআউটের মধ্যেই বিল তিনটি পাস হয়।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদে কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস করা হয়।

২০০৯ সালের বিদ্যমান আইন রহিত করে পাস হওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬-এর মাধ্যমে কমিশনের জন্য নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিশনে অন্তত একজন নারী এবং একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন আইনে কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের আলোকে ‘জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ নামে একটি ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

তবে বিলটি পাসের আগে এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, নতুন আইনেও দ্বিমুখী নীতি রাখা হয়েছে। তার দাবি, সাধারণ কোনো নাগরিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত হলে কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারবে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বা নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে আগে নোটিশ দিয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিরোধীদলের সদস্যদের মতে, এমন বিধান কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা দুর্বল করতে পারে। এ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তারা বিলটির ওপর আরও আলোচনা না করেই ওয়াকআউট করেন। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, অংশীজনদের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই আগের অধ্যাদেশ বাতিল করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল আইন আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬-এ গুমকে আমলযোগ্য, অ-জামিনযোগ্য ও অ-আপসযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের মাধ্যমে কাউকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণের পর তার অবস্থান অস্বীকার কিংবা গোপন করা হলে সেটিকে গুম হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী গুমের সাধারণ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে গুমের শিকার ব্যক্তি মারা গেলে অথবা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন, আইনি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের জন্য ক্ষতিপূরণ ফান্ড, ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের সুযোগ এবং নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পত্তি পরিবার কর্তৃক ব্যবহারের আইনি অধিকারও যুক্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সনদ দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। তবে গুমের তদন্তের জন্য আলাদা কোনো স্বতন্ত্র সংস্থা গঠন করা হয়নি। তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপরই রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন করে পাস হওয়া বিলে ‘আজীবন ভোগস্বত্ব সংরক্ষিত দান’ নামে নতুন একটি আইনি ধারণা যুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই বিধানের আওতায় পিতা-মাতা, পিতামহ বা কোনো দাতা নির্দিষ্ট রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় কিংবা জীবনসঙ্গীর নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করলেও নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার ধরে রাখতে পারবেন। বিধানটি সব ধর্মের নাগরিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

তবে সম্পত্তি হস্তান্তর বিলটি নিয়ে সংসদে বিরোধীদলের সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান। তাদের দাবি, এর কিছু বিধান কোরআন ও সুন্নাহর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর দাবি জানান তারা।

বিরোধীদের জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে গেলে তারা সাময়িকভাবে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

বিজ্ঞাপন

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, সম্পত্তি হস্তান্তরের এই সংশোধনী সাধারণ দান বা মুসলিম আইনে প্রচলিত হেবার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। বিদ্যমান ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে এই আইনের কোনো সাংঘর্ষিকতাও নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে জানানো হয়েছে।

সবশেষে বিরোধীদলের আপত্তি ও ওয়াকআউটের মধ্যেই তিনটি বিল কণ্ঠভোটে সংসদে পাস হয়।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD