Logo

মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ থেকে বেরিয়ে গেল বিরোধীদলের এমপিরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১:৩৯
মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ থেকে বেরিয়ে গেল বিরোধীদলের এমপিরা
ছবি: সংগৃহীত

তিনটি বিল পাসের প্রতিবাদে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। পরে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান তারা।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন চলাকালে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ পাসের বিরোধিতা করেন বিরোধীদলের সদস্যরা। একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান।

ওয়াকআউটের পর সংসদ ভবনের টানেলে সংবাদ সম্মেলন করেন বিরোধীদলের নেতারা। সেখানে তারা দিনটিকে সংসদের জন্য ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ এনে তারা বলেন, আলোচিত তিনটি বিলের মাধ্যমে জনগণের মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পিকারের সমালোচনা করে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে বক্তব্য দিতে চাইলেও তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। বরং তার সঙ্গে মশকরা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্পিকারের এমন আচরণকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন চিফ হুইপ।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, বিরোধীদলের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার তাড়াহুড়ো করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ সংসদে উত্থাপন ও পাস করেছে। এসব আইনে স্বাধীনভাবে তদন্ত করার ন্যূনতম সুযোগও রাখা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র নজিবুর রহমান ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’কে কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী বলে দাবি করেন। তিনি আইনমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, ইসলামী বিধান সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকায় বিষয়টি সংসদে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

নজিবুর রহমান বলেন, স্পিকারের মূল দায়িত্ব ছিল সংসদে ন্যায়সংগত পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। একই সঙ্গে সরকার মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনগুলো আরও কার্যকর করার পরিবর্তে সেগুলোকে দুর্বল করে পাস করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এসব আইন জনগণের মানবাধিকার রক্ষার পরিবর্তে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, এর মাধ্যমে মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে গুম ও হত্যার মতো ঘটনার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরের সীমাহীন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা ভুলে সরকার আবারও পুরোনো পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনার দিকে এগোচ্ছে। বিরোধীদলের নেতারা এসব বিষয়ে সংসদে যথাযথ আলোচনা ও মতামতের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD