Logo

গ্যাস সংকটে মুশফিকুরের নাতির পকেট ভারী করা হচ্ছে কী?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৩
গ্যাস সংকটে মুশফিকুরের নাতির পকেট ভারী করা হচ্ছে কী?
হাসনাত আব্দুল্লাহ । ফাইল ছবি

তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনে চীনা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি প্রকল্পটির ব্যয়, প্রস্তাবের মিল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য যোগসূত্র এবং চীনা প্রতিষ্ঠানের কারিগরি অভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহর পোস্টের মূল প্রশ্নগুলোর একটি হলো, বিদ্যমান দুটি এফএসআরইউর তুলনায় তৃতীয় টার্মিনালের জন্য কেন বেশি রিগ্যাসিফিকেশন ফি প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, কুতুবজোমে প্রস্তাবিত টার্মিনালের জন্য China National Energy Engineering & Construction Co. (CNEE) ১৫ বছরের ব্যবস্থায় প্রতিদিন ৩ লাখ ৪২ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব করেছে। বর্তমানে এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউর দৈনিক ফি ২ লাখ ৫৪ হাজার ডলার এবং সামিট এলএনজি টার্মিনালের ফি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১১৫ ডলার।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

হাসনাতের দাবি, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল) ২০২৫ সালের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রতিদিন ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৩ ডলার ফি সুপারিশ করেছিল। এ কারণে CNEE-এর প্রস্তাবিত ফি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কুতুবজোমে নতুন এফএসআরইউ স্থাপনে CNEE-এর প্রস্তাবটি বাংলাদেশ-চীন সরকার-টু-সরকার (G2G) ব্যবস্থায় নীতিগতভাবে অনুমোদন করে।

বিজ্ঞাপন

হাসনাত তার পোস্টে আরও দাবি করেন, NS Energy নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১২ মে তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তার দাবি, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব এবং পরবর্তী সময়ে CNEE-এর দেওয়া প্রস্তাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। এমনকি দুই নথিতে ব্যবহৃত শব্দ, সংখ্যা ও একটি ম্যাপের তথ্য নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। একই ধরনের নথির মিল নিয়ে একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জ্বালানি বিভাগের সূত্রের বরাতেও তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

হাসনাতের পোস্টে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের নাতির সঙ্গে NS Energy-এর সম্ভাব্য সম্পর্কের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

পোস্টে তিনি লিখেন, গ্যাস সংকটকে কাজে লাগিয়ে সাগরে তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপন করে মুশফিকুর রহমান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪) এমপির নাতির পকেট ভারী করা হচ্ছে কী?

বিজ্ঞাপন

তবে এগুলো তার উত্থাপিত অভিযোগ ও প্রশ্ন; স্বাধীনভাবে সব দাবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

মুশফিকুর রহমানের বক্তব্যও হাসনাতের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, NS Energy Navigation ও CNEE-এর মধ্যে কোনো সম্পর্কের বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং এ বিষয়ে তার জামাতাই জানতে পারেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

তৃতীয় টার্মিনালের প্রস্তাবিত ব্যয় ও প্রক্রিয়া নিয়েও এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে। দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, CNEE-এর প্রস্তাবিত রিগ্যাসিফিকেশন ফি বর্তমান দুই এফএসআরইউর তুলনায় প্রায় ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের আলোচনাকারী কমিটি প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ব্যয়ের কতটা যৌক্তিক, তা নির্ধারণ করতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

হাসনাত আরও দাবি করেছেন, CNEE তাদের কারিগরি সক্ষমতা তুলে ধরতে সামিট টার্মিনাল-২ এফএসআরইউ প্রকল্পে অভিজ্ঞতার কথা বলেছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সামিট এলএনজি টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তির কথা অস্বীকার করেছেন। তবে এ দাবির পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাইও প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে বাংলাদেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু রয়েছে। সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালিত এসব টার্মিনালের প্রত্যেকটির দৈনিক রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপনের ক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি হলো গ্যাস সরবরাহের নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য, নির্বাচন প্রক্রিয়া, প্রস্তাবের পারস্পরিক মিল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সক্ষমতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ তার পোস্টে এসব বিষয় নিয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার দাবি তুলেছেন।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD