Logo

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বক্তব্য নিয়ে অবশেষে দুঃখ প্রকাশ হাসনাতের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:৫৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বক্তব্য নিয়ে অবশেষে দুঃখ প্রকাশ হাসনাতের
হাসনাত আবদুল্লাহ | ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধের বিষয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে হাসনাত বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ এবং আলেম-ওলামাদের সম্পর্কে ভুল বার্তা যাওয়ায় তিনি দুঃখিত।

হাসনাতের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার মতে, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও স্থানীয় আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়েছেন। এতে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনা ব্যাখ্যা করে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তবতা তার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

হাসনাতের বক্তব্য অনুযায়ী, শব্দ কমানোর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। ফলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করে দিয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তার মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ—এমন ধারণাও বাস্তবসম্মত নয়।

নৌকাবাইচের স্থান উল্লেখের ক্ষেত্রেও নিজের তথ্যগত ভুলের কথা স্বীকার করেছেন হাসনাত। তিনি জানান, নৌকাবাইচের স্থান হিসেবে সিলেটের পরিবর্তে ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম বলেছিলেন। এই ভুলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং দুঃখিত।

হাসনাত আরও জানান, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময় সীমিত থাকায় ঘটনার প্রকৃত বিবরণ এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের পার্থক্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার সুযোগ তিনি পাননি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমি এবং আমার দল জুলাইয়ের আদর্শকে ধারণ করি এবং সকল নীতি, সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ওপর নির্ভর করেই নিতে চাই।’

জুলাইয়ের আদর্শের ব্যাখ্যায় হাসনাত এমন একটি সর্বজনীন বাংলাদেশের কথা তুলে ধরেন, যেখানে ধর্ম, মত ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা সত্ত্বেও সবার অধিকার নিশ্চিত থাকবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জোর করে নিজের মতামত অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাসনাতের ভাষ্য, ‘এই বাংলাদেশ সবার—এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, যার যে বিষয় পছন্দ, সে তাতে অংশ নেবে এবং যা পছন্দ নয়, তাতে অংশ নেবে না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে মানুষের এই অধিকার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সেটিও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমান সরকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না দাবি করে হাসনাত বলেন, এর ফলে সমতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তার বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের আন্দোলন ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিনির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে হয়েছিল। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে একটি সর্বজনীন সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল ওই আন্দোলনের লক্ষ্য। সেই বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

যে বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক

বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমা বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা দাবি করে হাসনাত প্রশ্ন করেন, ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যথাযথ ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, নাকি তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সংসদে দেওয়া ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এর প্রতিবাদ শুরু হয়। শুক্রবার রাতে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে হাসনাতের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং দুঃখ প্রকাশের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD