Logo

আমরা ইনসাফের বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি: সাদিক কায়েম

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:০৮
আমরা ইনসাফের বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি: সাদিক কায়েম
ছবি: সংগৃহীত

‘ইনসাফের বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে দেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটিকে নিরাপদ রাখার স্বপ্ন দেখেন তারা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের শহর শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সাদিক কায়েম বলেন, ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম চলছে। গত ৫৫ বছরে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে অসংখ্য নেতৃত্ব এসেছে। অনেকে আমলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়েছেন। কিন্তু তাদের নেতৃত্বের পরও দেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি আসেনি।

জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শহীদ আনাসসহ ১৩৩ শিশু এবং ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ জীবন দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা। কৃতী শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই সেই নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন তারা। এজন্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সাদিক কায়েম বলেন, জীবনের প্রকৃত সাফল্য হলো ভালো মানুষ হতে পারা। অনেক শিক্ষার্থী এসএসসি-এইচএসসিতে এ প্লাস বা গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন। পরে কেউ আমলা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু শুধু পদ অর্জন করলেই দেশের মানুষের কল্যাণ করা যায় না।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গত ১৬ বছরের শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই সময়ে যারা এমপি-মন্ত্রী ছিলেন, তাদের অনেকেই মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে ক্ষতির কারণ হয়েছেন। তার অভিযোগ, মানুষকে গুলি করে হত্যা, আয়নাঘর তৈরি এবং হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে শিশু হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

রাজনীতিতে দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ডাকসু ভিপি বলেন, বর্তমানে রাজনীতিবিদদের নিয়ে মানুষের মধ্যে দুর্নীতির ধারণা তৈরি হয়েছে। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। তিনি সাবেক দুই মন্ত্রী শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সততা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমসম্পন্ন নেতৃত্ব বেছে নিতে পারলে দেশের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।

জুলাই বিপ্লবের পর ছাত্ররাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করার কথা উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, গণরুম ও গেস্টরুমকেন্দ্রিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে সুস্থ ধারার ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল। তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে এর প্রমাণ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ডাকসুসহ পাঁচটি ছাত্রসংসদ নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করার পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আবাসন ও খাবারের সংকট, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে কাজ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সাদিক কায়েম বলেন, একটি ভাঙা ক্যাম্পাস ও সমাজকে কীভাবে নতুনভাবে গড়ে তোলা যায়, তারা তা কাজের মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। এ ছাড়া স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD