চূড়ান্ত ডাক এলে সবাইকে বের হতে হবে: শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চূড়ান্ত সময় এলে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে বের হতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রস্তুত থাকার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ চলাকালে ফেনীর মহিপালে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা খানিকটা সময় দিচ্ছি। কিন্তু এই সময় দীর্ঘ হবে না। আপনারা প্রস্তুত থাকুন। চূড়ান্ত ডাক এলে সবাইকে বের হতে হবে। আমরা সবাই এই যুবকদের সঙ্গে আছি। আমাদের জীবনে যা পাওয়ার পেয়ে গেছি, এখন সব তোমাদের জন্য লড়বো।”
‘নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি’
বিজ্ঞাপন
দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, তাদের এই কর্মসূচি কোনো দলীয় স্বার্থে নয় এবং কাউকে নেতা বানানোর উদ্দেশ্যেও নয়।
তিনি বলেন, পুরোনো ফ্যাসিবাদকে বিদায় করতে জনগণকে সাড়ে ১৫ বছর ধরে লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়েছে। এ সময়ে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের কম নয় এবং শুধু জুলাই মাসেই প্রাণ গেছে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষের।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শফিকুর রহমান বলেন, নতুন করে যারা ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না।
‘ভয় করি শুধু আল্লাহকে’
বিজ্ঞাপন
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, আন্দোলনে যারা একসঙ্গে ছিলেন, তাদের সাহস ও ভূমিকা সম্পর্কে তারা অবগত। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের চাপ বা হুমকি দেওয়া হলেও তাতে তারা ভীত নন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “কোনো চোখ রাঙানি আমরা ভয় করি না, ভয় করি শুধু আল্লাহকে।”
সাড়ে ১৫ বছর আগে সরকারের অনুমতি ছাড়া অল্পসংখ্যক মানুষও রাস্তায় নামতে সাহস করতেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
‘দেশ ছাড়িনি, জনগণের সঙ্গে ছিলাম’
জনগণের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশই তাদের ঠিকানা। অতীতে নানা চাপ ও নির্যাতনের মুখেও তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি।

তিনি বলেন, “আমাদের ওপর স্ট্রিম রোলার চালানো হয়েছে। কিন্তু আমরা দাদার বাড়ি, পিসির বাড়ি যাইনি। দেশ ছাড়িনি, মাটি কামড় দিয়ে এ দেশের বুকে ছিলাম। জনগণের সঙ্গে সুখে-দুঃখে ছিলাম।”
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, যারা সামান্য প্রতিকূলতা দেখলেই দেশ ছেড়ে চলে যায়, তাদের অতীত ও বর্তমান সম্পর্কে জনগণ অবগত। আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে ভবিষ্যতেও জনগণের সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা
দেশের মানুষ ভালো নেই দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে ফেনী পর্যন্ত আসার পথে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট দেখেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যুৎ সংকটের জন্য সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “কিন্তু বিদ্যুৎ কোথায় আছে জানেন? বিদ্যুৎ আছে জাতীয় সংসদের ভেতরে, বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়ি-ঘরে।”
সরকারের পক্ষ থেকে সংকট নেই বলা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে যারা মিথ্যা কথা বলতে পারেন, তাদের পক্ষে জনগণের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।
জনগণের অধিকার হরণ হলে প্রতিরোধের ঘোষণা
বিজ্ঞাপন
জনগণের অধিকার খর্ব করা হলে বিরোধী দল নীরব থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, “বিরোধী দলের দায়িত্ব হচ্ছে যেখানে জনগণের অধিকার নিয়ে টান দেওয়া হবে, সেখানেই বর্জন করা, বাধা দেওয়া, প্রতিবাদ করা এবং সেখানেই প্রতিরোধ গড়া তোলা।”
সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, সব পর্যায়ে দলীয়করণ ও অনিয়ম হলে বিরোধী দল বসে থাকবে না।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
বিজ্ঞাপন
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে এর ফল মেনে নিয়ে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন শফিকুর রহমান। কিন্তু ছয় মাস পার হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষায়, “এই সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের বিষয়। অতীতে জনগণের ভোটের রায় উপেক্ষা করা ব্যক্তিদের করুণ পরিণতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ছয় দফা দাবিতে লংমার্চ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সংরক্ষণ, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই লংমার্চের আয়োজন করে।
মহিপালের পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে দুপুর থেকেই মহিপাল ফ্লাইওভারের দক্ষিণ অংশে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। ফেনীর ছয় উপজেলা ছাড়াও নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের নেতাকর্মীরা পথসভায় অংশ নেন।
পথসভা শেষ হওয়ার পর লংমার্চটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে।








