বাসায় গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে এমন কার্ড থাকলে দেন: আসিফ মাহমুদ

দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের লালদিঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এমন কোনো কার্ড থাকলে দেন, যে কার্ড দিলে বাসায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।”
‘সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে’
বিজ্ঞাপন
বর্তমান পরিস্থিতিকে সংকটময় উল্লেখ করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, দেশের চলমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে বলে তারা আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতির পরিবর্তে সংকট আরও গভীর হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, “আজ আমরা দেশে একটি সংকটময় মুহূর্ত পার করছি। আমরা ভেবেছিলাম, এ সংকট খুব দ্রুত কেটে যাবে। কিন্তু সংকট আরও বাড়ছে। বর্তমান সরকারের আমলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।”
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের চিত্র তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, মানুষকে আবার লাকড়ি ব্যবহার করে রান্না করতে হচ্ছে। তার মতে, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে দেশ আধুনিকতার বদলে আরও পিছিয়ে পড়তে পারে।
‘ডিজিটাল যুগ থেকে অ্যানালগে ফিরছি’
বিজ্ঞাপন
সরকার গঠনের পর জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমার মনে হচ্ছে, আমরা আস্তে আস্তে আগের আমলে ফিরে যাচ্ছি। আবার লাকড়ি জ্বালিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। এভাবে পেছনের দিকে যেতে যেতে আমরা প্রস্তর যুগেও চলে যেতে পারি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আবার ডিজিটাল যুগ থেকে অ্যানালগ যুগে ফিরে যাচ্ছি।” দ্রুত সময়ের মধ্যে জনদুর্ভোগ কমাতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
জনগণের হাতে ক্ষমতা দেওয়ার আহ্বান
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। দেশে ১১ দলীয় ঐক্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রয়েছে উল্লেখ করে জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তার বক্তব্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট দূর করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো উঠে আসে।
এ ছাড়া চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
এসব দাবিকে সামনে রেখে ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চের আয়োজন করে। শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।








