চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে চায় ইসি

চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে দেশের সব ইউনিয়নে একসঙ্গে ভোট না নিয়ে ব্যয় সংকোচন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে নেতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে আসন্ন উপনির্বাচনে প্রযুক্তিনির্ভর ভোটব্যবস্থা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।
ধাপে ধাপে হবে ইউপি নির্বাচন
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের যে প্রস্তুতি চলছে, তার অংশ হিসেবে চলতি মাসের শেষ নাগাদ ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, দেশের সব ইউনিয়নে একই সময়ে ভোট আয়োজন করা অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক—দুই দিক থেকেই কঠিন। সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পর্যায়ক্রমে সব ইউনিয়নে নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ভোটের তারিখ
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার পরিবেশের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কমিশনার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নভেম্বর ও ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়।
বিজ্ঞাপন
দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি শিক্ষকরাই সাধারণত প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেন। এ কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময় বাদ দিয়ে পরীক্ষার আগে অথবা পরে ইউপি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
ভোটার স্থানান্তর নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান
ভোটার স্থানান্তর নিয়েও অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, ভোটার স্থানান্তর একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। এটিকে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে পরিচালিত কার্যক্রম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিজ্ঞাপন
ভুল বোঝাবুঝি ও অনিয়ম ঠেকাতে কমিশন এ প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। ফলে নির্ধারিত নিয়ম মেনেই ভোটাররা স্থানান্তরের সুযোগ নিতে পারবেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতিতে আপত্তি
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কমিশনের অবস্থান নেতিবাচক।
বিজ্ঞাপন
ইসি মনে করে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গঠনমূলক পরিবেশের জন্য বড় বাধা হতে পারে। এতে শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন সরকারের চাপের মধ্যে রয়েছে—এমন অভিযোগও করা হয়েছিল। এ বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, কমিশন সরকারের চাপে রয়েছে—এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার মাধ্যমে মূলত কমিশনের ওপরই রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপনির্বাচনে পোস্টাল ভোটিংয়ে জোর
বিজ্ঞাপন
আসন্ন উপনির্বাচনগুলোতে ভোটারদের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও আধুনিক করতে আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কমিশনার জানান, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজবোধ্য, কার্যকর ও জনবান্ধব করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাড়ছে নিরাপত্তা
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং কারচুপি ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা থাকবে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে ড্রোন প্রযুক্তিও।
একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন কাজ করছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।








