দেশের উন্নয়নে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে: স্পিকার

দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একই সঙ্গে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার। এসপিসিপিডি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বাস্তবায়নে ‘জনসংখ্যা বোনাস, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং আইসিপিডি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
স্পিকার বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। জনমিতিক লভ্যাংশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয়েরই সমান ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের ধারায় নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্যাথেরিন ব্রিন ক্যামকং।
বিজ্ঞাপন
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে জাতীয় সংসদ কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বন্ধ, কিশোরীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং নারীর প্রতি সহিংসতা রোধকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন স্পিকার। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
এসব সমস্যা মোকাবিলায় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে শুধু সংখ্যার বিচারে দেখলে চলবে না। যথাযথ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসদের কাজ কেবল আইন প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জনগণের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নেও সংসদকে ভূমিকা রাখতে হবে।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য থাকলেই কোনো দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয় না। একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার দক্ষ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বিপুল কর্মক্ষম মানুষকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ইউএনএফপিএর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্যাথেরিন ব্রিন ক্যাম্পকং বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জনসংখ্যার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার জনবান্ধব নীতি গ্রহণ করছে। এসব উদ্যোগে উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি।
কর্মশালায় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, হুইপ, সংসদ সদস্য, ইউএনএফপিএ ও এসপিসিপিডি প্রকল্পের প্রতিনিধিসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








